কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য তথা গণিত বিভাগের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউ (Buddhadeb Shaw)। সংঘর্ষের সময় ৪ নম্বর গেটের কাছে তাঁর উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে। সেই ফুটেজ সামনে আসার পরই তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষক। উঠেছে পুলিশি তদন্তের দাবিও।
গত বুধবার ফেটসুর সাধারণ সভা বা জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে অরবিন্দ ভবনে অশান্তির সূত্রপাত। বামপন্থী ছাত্রদের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি সদস্যরা ঢুকে হামলা চালান। পাল্টা এবিভিপির দাবি, বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁদের উপরেই হামলা চালানো হয়েছিল। সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন পড়ুয়া আহত হন।
আরও খবর : কলকাতা থেকে শেষযাত্রা, ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরল দুই বাংলাদেশি পর্যটকের মরদেহ
এর পর বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের পাল্টা মিছিল ঘিরে ৪ নম্বর গেটের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই রাতের ঘটনাতেই বুদ্ধদেবের উপস্থিতি ঘিরে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
ফুটেজে তাঁর পাশে এবিভিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যকেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং সংঘর্ষ উস্কে দেওয়ার পিছনে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুদ্ধদেব। তাঁর বক্তব্য, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন চত্বরেই থাকেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নেমেছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও পক্ষ নেননি, বরং সামনে যাঁদের পেয়েছেন, তাঁদেরই শান্ত থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
এদিকে শিক্ষকদের একাংশ তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাঁদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজের সম্পূর্ণ তথ্য সামনে এনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে।







