কলকাতা: নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে রাজ্যে বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভোটপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে হবে, তা প্রত্যাহার করা যাবে না আদালতের অনুমতি ছাড়া।
প্রধান বিচারপতির রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে প্রায় ২ হাজার মামলা এখনও বিচারাধীন। এদিকে, আপিল ট্রাইব্যুনাল ১৩ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে এবং এই বিশাল দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তাদের প্রশংসাও করে আদালত।
আরও পড়ুন: দেখা মিলল না ‘মিঠুন দা’-র, সাহসপুরে ক্ষোভে ফুঁসছে সমর্থকরা
আদালত জানায়, ২ ও ৬ এপ্রিলের নির্দেশ মেনে মুখ্যসচিব ও ডিজি হলফনামা জমা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিএপিএফ) সহায়তায় জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন জারি থাকবে।
এদিন শুনানিতে ভোটার তালিকা নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়া হোক। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “সে প্রশ্নই ওঠে না।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তবেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয় বিবেচিত হবে।
আদালতে অ্যাডভোকেট অশ্বিনী উপাধ্যায় ‘জনবিন্যাস পরিবর্তন’ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “বাংলা জানে কীভাবে লড়তে হয়।”
সব মিলিয়ে, নির্বাচন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও ভোটার তালিকা নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই হাইকোর্টের এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আইনমহল।







