কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে নানা কাটাছেঁড়া চলছে। তবে পরিবর্তনের পাল্লা সামান্য ভারী। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে পশ্চিমবঙ্গে। ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে।কিন্তু এই বুথফেরত সমীক্ষার ফল অনেক সময়ই মেলে না। গতকাল রাতের বুথফেরত সমীক্ষার পরে বৃহস্পতিবার বাংলার জনগণের কাছে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গণনায় (Counting Hall) কারচুপির আশঙ্কায় সাবধানবাণী দিলেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী বলেন,’রেজাল্ট বেরনোর দিনে আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক সম্মেলন করব, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না…’।
বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখানো এগজিট পোলের পিছনে বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যেই এটা করা হচ্ছে বলে দাবি করলেন তিনি। এ দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তায় মমতা বলেন, ‘যে হেতু মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেনি, তাই শেষ খেলাটা খেলেছে মিডিয়ার একাংশকে কাজে লাগিয়ে। যাতে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। মমতার আশঙ্কা, স্ট্রং রুম থেকে গণনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ইভিএম বদল করা হতে পারে। গণনার সময় কারচুপির সম্ভাবনা প্রবল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, তৃণমূলই সরকার গড়বে, কারও চিন্তার কোনও কারণ নেই। তবে বিজেপি যে গণনায় কারচুপির চেষ্টা করবে, তা নিয়ে মোটের উপর নিশ্চিত তৃণমূল সুপ্রিমো।
আরও পড়ুন: আমরা সরকার গঠন করছি, ভিডিও বার্তা মমতার, আর কী কী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো?
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইভিএম পাহারা দিতে হবে। আমার এলাকায় পাহারা দেব আমি। ২৯৪ আসনের প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। মমতার কথায়, ‘রাতের বেলা নিজেরা থাকুন। প্রয়োজনে আমি পাহারা দেব। সবাইকে নিয়ম করে পাহারা দিতে হবে। কাউন্টিং সেন্টার থেকে গণনা টেবিলে যাওয়ার সময় মেশিন বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা ওরা করেছে। রেজাল্ট বেরনোর দিন, আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক সম্মেলন করব, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না টেবিলে যে গণনা হয়, সেটা কম্পিউটারে তোলার সময়ে বদলে যেতে পারে। আমাদের ফল ওদের দিয়ে দিতে পারে।’এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি নিজে প্রার্থী হিসেবে গণনাকেন্দ্রে থাকবেন। তাঁদের নির্দেশ, সকল প্রার্থী থেকে গণনাকেন্দ্রে থাকেন। অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া যেন একমুহূর্তের জন্যও কেউ না সরেন। মমতার কথায়, “যদি উঠতেই হয়, এমন কাউকে রেখে যাবেন যিনি টাকায় বিক্রি হবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বললেন, “আমি যতক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না বলব, ততক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।







