ওয়েব ডেস্ক: দিল্লির রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস। রাজধানীর ২৪, আকবর রোডের ঠিকানা, যেখানে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের (Indian National Congress) সদর দফতর ছিল, সেই ঐতিহ্যবাহী ভবন এবার ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ মিলেছে বলে সূত্রের খবর। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আসন্ন শনিবারের মধ্যেই আকবর রোডের এই বাংলো খালি করতে হবে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর ৫, রাইসিনা রোডে অবস্থিত যুব কংগ্রেসের দফতরও ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের ৯ জানুয়ারি সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) হাত ধরে কোটলা মার্গে কংগ্রেসের নতুন সদর দফতরের উদ্বোধন হয়। তবুও আকবর রোডের ঐতিহাসিক ভবনটি পুরোপুরি খালি করা হয়নি, আজও সেখানে দলীয় কার্যকলাপ চলতে দেখা যায়। কারণ, বহু বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার কাছে এই ভবন শুধুমাত্র একটি দফতর নয়, বরং আবেগ ও ইতিহাসের প্রতীক।
আরও পড়ুন: ৪৮ বছর পর খুলছে পুরীর ‘রত্ন ভাণ্ডার’! কী রহস্য লুকিয়ে আছে জগন্নাথ মন্দিরের এই গুপ্তকক্ষে?
এই বাড়ির ইতিহাসও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় এখানে বসবাস করতেন আয়ুং স্যান সু কি। পরে এটি কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর, যখন দল ভাঙনের মুখে, তখন ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) এই আকবর রোড থেকেই দলকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। তাঁর অনুগামী রাজ্যসভার সাংসদ জি বেঙ্কটেস্বামী এই বাংলোটি তাঁর ব্যবহারের জন্য দেন।পরবর্তী সময়ে রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi), পিভি নরসিহমা রাও (PV Narasimha Rao) এবং মনমোহন সিংয়ের (Manmohan Singh) আমলেও এই ভবনই কংগ্রেসের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও মুহূর্তের সাক্ষী এই বাংলো।
যদিও আকবর রোড ছাড়ার বিষয়টি নতুন নয়। ২০১০ সালে কংগ্রেসকে রাউজ অ্যাভিনিউ এলাকায় নতুন সদর দফতর নির্মাণের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৩ সালের মধ্যেই আকবর রোডের দপ্তর স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু সেই সময় তা কার্যকর হয়নি।
দেখুন আরও খবর:






