ওয়েব ডেস্ক: সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করলে তা আদর্শ হবে? বিতর্ক শুরু হয়েছিল ইনফোসিসের কর্ণধার নারায়ণ মূর্তির ৭০ ঘণ্টা কাজ করার সওয়াল দিয়ে। এই নিয়ে নানা মুনির নানা মত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে জোর চর্চা হয়। এবার শুক্রবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitharaman) পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও উঠে এল এই বিষয়। তাতে সতর্ক করা হয়েছে সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হবে। এই প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (Who) একটি রিপোর্টকে তুলে ধরে বলা হয়েছে দীর্ঘ সময় কাজের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে বহু কাজের দিন অবসাদ ও উদ্বেগে নষ্ট হয়ে যায়। যাতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ক্ষতি হয়। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সমস্যাজনক কর্ম সংস্কৃতি (Work Culture) ও ডেস্কে অতিরিক্ত সময় কাজ মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রি বাজেট ইকনমিক সার্ভে ২০২৪-২০২৫ (Economic Survey 2024-2025) অনুযায়ী সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে তাতে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, অতিরিক্ত কাজ মানসিক চাপের সৃষ্টি করবে। দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করা কর্মীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশনের এই সংক্রান্ত রিপোর্টও তাতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে সপ্তাহে ৫৫ থেকে ৬০ ঘণ্টার বেশি কাজে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়বে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ, চীনে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজের রেওয়াজ রয়েছে।
এলএনটির চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এসএন সুব্রহ্মনিয়ন সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন কর্মীদের সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করা উচিত। রবিবারও কাজের ফরমান দিয়ে তিনি বলেছিলেন, কতক্ষণ ঘরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকবেন? তার পাল্টা আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, কেউ যদি ৮ ঘণ্টার বেশি ঘরে থাকেন তাহলে তাঁর স্ত্রী পালিয়ে যাবে। আরপিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা বলেন, লম্বা কাজের সময় পোড়ানোর উপকরণ হতে পারে, সফলতার নয়। মহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মহিন্দ্রা বলেন, কতক্ষণ কাজ করলেন সেটা বড় নয়, কতটা গুণের কাজ করলেন সেটা গোনা হয়। আইটিসি চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরিও লম্বা কাজের সময়ের চেয়ে কার্যকরী ভূমিকায় কর্মীদের কাজে জোর দেওয়ার কথা বলেন।
দেখুন অন্য খবর: