কলকাতা: রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভায় (West Bengal Budget 2026) আজ অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দুপুর আড়াইটেয় বাজেট পেশের আগে বেলা সাড়ে বারোটায় ভাষণ দেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (CV Anand Bose)। রাজ্যপালের ভাষণ এবং বাজেট পেশ—দুই সময়েই বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা ছিলই। সেই প্রত্যাশা মতোই একাধিক ঘোষণায় চমক দেখা গেল। সবচেয়ে বড় ঘোষণা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনুদান ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৪ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাজেটে বিরাট ঘোষণা, DA বাড়ল ৪%
এছাড়াও প্যারা টিচার, শিক্ষাবন্ধু ও আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। যুব সম্প্রদায়ের জন্য নতুন ‘যুব সাথী’ নামে একটি প্রকল্প আনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। গ্রামীণ উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণ, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সে মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষিত যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের পথে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প যুব সাথী। যারা শিক্ষা সংক্রান্ত স্কলারশিপ ছাড়া রাজ্য সরকারের অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না তাদের কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বাধিক পাঁচ বছর মাসে দেড় হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে। আগামী ১৫ই আগস্ট থেকে চাচা চালু হচ্ছে অর্থাৎ বেকার ভাতা।
উল্লেখ্য, বাজেট পেশের আগে বেলা সাড়ে বারোটায় বিধানসভায় ভাষণ দেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের ভাষণ ও বাজেট পেশ—দুই সময়েই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা উন্নয়নের পথে এগিয়েছে এবং তা নিয়ে সরকার গর্বিত। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে তিনি জানান, ১৫০০ কোটি টাকা দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৩০০ কোটির কাজ সম্পন্ন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া অর্থ না পাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
নির্বাচনের আগে এই অন্তর্বর্তী বাজেটকে স্পষ্টভাবেই জনমুখী বার্তা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর, ঘোষণাগুলির বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।







