Sunday, June 7, 2026
HomeScrollশান্তিপুরের আগমেশ্বরী কালীপুজোয় মানা হয় বিশেষ এই নিয়ম
Kalipuja 2025

শান্তিপুরের আগমেশ্বরী কালীপুজোয় মানা হয় বিশেষ এই নিয়ম

তন্ত্রসাধনার মধ্যে স্বপ্নাদেশ পেয়ে নদিয়ার শান্তিপুরে শুরু আগমেশ্বরী মাতার কালীপুজো

নদিয়া: বাংলার আদি দক্ষিনাকালী, শান্তিপুরের আগমেশ্বরী মায়ের (Agameswari Kali Santipur) পুজোয় আজও প্রায় ৪০০ বছরের রীতি মেনে হচ্ছে পুজো। তন্ত্রসাধনার মধ্যে স্বপ্নাদেশ পেয়ে নদিয়ার শান্তিপুরে শুরু আগমেশ্বরী মাতার কালীপুজো ৷ কথিত আছে, এই পুজোর মধ্য দিয়ে শাক্ত এবং বৈষ্ণবদের মিলন ঘটেছিল ৷  শাক্ত ও বৈষ্ণবের মিলন ক্ষেত্র শান্তিপুরে মায়ের আবাহনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। অদ্বৈতের পদধূলিপুত, বৈষ্ণব প্রেমধর্মে সঞ্জীবিত, হিন্দু সংস্কৃতির আদি নিকেতন এই শান্তিপুরে নবদ্বীপ থেকে এলেন রত্নগর্ভ সার্বভৌম আগমবাগীশ। বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্যের নাতি মহাভাগ মথুরেশ গোস্বামী তখন শাস্তিপুরের জ্ঞানী গুণী ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের অন্যতম। অতএব জামাতা সার্বভৌমকে শান্তিপুরে বসবাসের সবরকম ব্যবস্থা অনায়াসে করে দিলেন মথুরেশ গোস্বামী। ইতিহাসের এমন অনেক মহিমাময় ঘটনা শাস্তিপুরের ঐতিহ্যকে গড়ে তুলেছে।

সার্বভৌমও সাধারণ ব্যক্তি নন। ‘তন্ত্রসার’ গ্রন্থ সংকলনকর্তা পন্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের নাম ভারতবিদিত। তাঁরই বংশধর (প্রপৌত্র) সার্বভৌম আগমবাগীশ। তিনি নিজেও তন্ত্রশাস্ত্রে সুপন্ডিত ও তন্ত্রসাধক। শ্বশুরের সাহচর্যে ও নিজের বৈশিষ্টে অতি সহজেই শান্তিপুরের বিদ্বৎসমাজে আপন আসন সুপ্রতিষ্ঠিত করে নিলেন তিনি। এই তান্ত্রিক সাধু রত্নগর্ভ সার্বভৌম আগমবাগীশ শান্তিপুরে তাঁর আরাধ্যা দেবা মহাকালীর প্রতিষ্ঠা করলেন। পরে ওই দেবী ‘আগমেশ্বরী’ নামে প্রতিষ্ঠালাভ করেন আগমবাগীশের নামানুসারে।

প্রায় পাঁচশো বছরের এ ইতিহাস শান্তিপুরের ধর্মজীবনে শ্যাম ও শ্যামার সমন্বয়ের গৌরবময় অধ্যায়কে তুলে ধরেছে, বিভিন্ন ধর্মাদর্শের মধ্যে প্রকাশ করেছে মিলনের মাহাত্মকে, বিভেদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছে মহান ঐক্যকে। যুগসঞ্চিত আচারের আবেষ্টনীর মধ্যে প্রথাজীর্ণ সমাজব্যবস্থার ভিতর দিয়েও অনুভূতিলব্ধ সত্যের আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে শান্তিপুরের সাংস্কৃতিক জীবনে। বহু পুরাতন বটবৃক্ষের ন্যায় শান্তিপুরের ধর্ম-সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল গভীরে প্রবিষ্ট হয়ে বহুদূর পর্যন্ত জ্ঞান ও সাধনার শাখা ছড়িয়ে দিয়েছে। জনজীবনে শান্তি ও কল্যানের ছায়া বিস্তার করে দিয়েছে সংস্কৃতির সভ্যতার এই মহামহীরূহ।

আরও পড়ুন: ৫১ সতীপীঠের অন্যতম দেবী বর্গভীমার মন্দির গড়ে ওঠার নেপথ্যে ছিল কী কারণ?

ইনি দক্ষিণাকালী মূর্তি। আজকাল ভারতে যত শ্যামাপূজা হয় তা অধিকাংশই এই আগমেশ্বরী মাতার প্রতিরূপ। দক্ষিণা কালীর আদিরূপ বলতে মাতা আগমেশ্বরীকেই বোঝায়। প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট, দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থেও অনুরূপ সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাতা আগমেশ্বরীর নামে স্থানীয় জনসাধারণ ভক্তিবিনম্র ও আকুলিচিত্ত। সকলে এঁকে নিজের আরাধ্যা মা বলে ভাবেন।

প্রতি বৎসর দীপান্বিতা অমাবস্যার রাত্রে অতি সমারোহে মাতার পূজানুষ্ঠান হয়। স্থানীয় জনসাধারণ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত দেবীর পূজা দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে সারারাত অপেক্ষা করেন। সর্বসাধারণের বৃত্তি ও দানে প্রতি বছর আগমেশ্বরীর পূজাব্যয় নির্বাহ হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যা ছাড়াও প্রতি অসাবস্যা তিথিতে মাতার চরণপীঠ পুজো হয়। ওইসব তিথি পুজোতেও বহু জনসমাগম হয়। বলা বাহুল্য প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন মাতা আগমেশ্বরীর নাম আজ সর্বজন বিদিত এবং মা আগমেশ্বরীর থান বললে আবাল-বৃদ্ধ বনিতা ভত্তিচিত্তে যুক্ত কর কপালে ঠেকান – তাঁর স্থানকে (থান) পীঠস্থানের মতই পবিত্র মনে করেন

অন্য খবর দেখুন

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ slot gacor BWO99 poker idn poker situs slot gacor toto slot SlotPoker188 situs toto istanaslot istanaslot sohibslot tikus4d https://tikus4dlink.com situs slot gacor PAKDE4D AMANAHTOTO AMANAHTOTO Pakde4D slot gacor hari ini