ওয়েব ডেস্ক : ডুয়ার্সের (Dooars) বানারহাট ব্লকের গয়েরকাটা চা-বাগানের বিঘা লাইন এলাকায় আংরাভাসা নদীর বুকে বেআইনি বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নদীর মধ্যে আর্থ মুভার দিয়ে মাটি কাটার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এইভাবে বদলে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে আংরাভাসা নদীর (River) ভাঙনে বিঘা লাইন এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বহু চা শ্রমিকের বসতভিটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও নদীর বুকে এই ধরনের কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিন্নাগুড়ি ফাঁড়ির পুলিশ এবং সাঁকোয়াঝোরা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও খবর : বীরভূমের নলহাটিতে এনআইএ-র হানা, উদ্ধার ২০ বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও বিপুল ডিটোনেটর
ডুয়ার্সের নদী গবেষক ড. সুব্রত ভট্টাচার্যের দাবি, অনুমতি ছাড়া নদীর বুকে বাঁধ নির্মাণ বা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর মতে, এ ধরনের কাজ ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বানারহাট সেচ দফতর জানিয়েছে, আংরাভাসা নদীতে এই কাজের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিও সামনে আসার পর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে। এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতি বরদাস্ত হবে না, বেআইনি দখল চলবে না। কিন্তু নবান্নের সেই কড়া বার্তা কি জলপাইগুড়ির বানারহাট পর্যন্ত পৌঁছয়নি? নাকি পৌঁছলেও মানছে না? সেখানকার মানুষের সোজা প্রশ্ন, প্রশাসন কি আবার ভাঙনের পর ত্রাণের প্যাকেট ধরাবে, নাকি এবার আগেই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে?







