Tuesday, February 10, 2026
HomeScrollচায়ের আড্ডা থেকে দুর্গাপুজোর ভাবনা খাটুয়া বাড়ির! দশমী নয়, বিসর্জন হয় দ্বাদশীতে
Jhargram Durga Puja

চায়ের আড্ডা থেকে দুর্গাপুজোর ভাবনা খাটুয়া বাড়ির! দশমী নয়, বিসর্জন হয় দ্বাদশীতে

পঞ্চমীর দিন বেলগাছের তলায় বেদি স্থাপন করে দেবীর বোধন হয়

ঝাড়গ্রাম: শারদোৎসবে মেতে উঠেছেন আপামর বাঙালি। শরতের আকাশ আর কাশফুলকে সাক্ষী রেখে গজের পিঠে চড়ে উমা এসেছেন মর্তে। শহরের পুজো তো বটেই। তবে আজও জেলার একাধিক বাড়ির পুজোর জনপ্রিয়তা শীর্ষে। তেমনই এক পুজো হল ঝাড়গ্রামের খাটুয়া বাড়ির দুর্গাপুজো। চায়ের আড্ডা থেকে দুর্গাপুজোর ভাবনা খাটুয়া বাড়ির। প্রথা মেনে অধিকাংশ স্থানে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন হলেও, খাটুয়া বাড়িতে তা হয় দ্বাদশীতে। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের কালিঞ্জা গ্রামের খাটুয়া বাড়ি পরিবারে বাঙালির ছুটির দিনের সকালে চায়ের সঙ্গে গল্পগুজবের প্রথা দীর্ঘদিনের। ১৪ বছর আগে এক ছুটির সকালে সেই গল্পগুজবের মাঝেই পুজোর প্রস্তাব আসে। ঠিক সেই সময় হঠাৎ উপস্থিত হন প্রতিমা শিল্পী। এভাবেই খাটুয়া বাড়ির দুর্গাপুজোর যাত্রা শুরু হয়।

প্রথম পুজোটি আয়োজিত হয় মাত্র ২০-২২ দিনের মধ্যে। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৪ বছর ধরে প্রতিটি বছর খাটুয়া বাড়িতে পুজো হয়ে আসছে। পুজোর মূল আয়োজন পরিচালনা করেন আইআইটির প্রফেসর ভানুভূষণ খাটুয়া, তার বড় কাকু শুশীল খাটুয়া, ছোট ভাই চন্দন খাটুয়া এবং কাকুর ছেলে চঞ্চল খাটুয়া। এই পরিবারের পুজোতে ব্যবহার হয় সমুদ্রের জল, নদীর জল, ঝর্ণার জল, বৃষ্টির জল, শিশির, রাজবাড়ির মাটি, দেবালয়ের মাটি, চৌরাস্তার মাটি, গবাদি পশুর গোচারণ মৃত্তিকা সহ নানান উপকরণ। পঞ্চমীর দিন বেলগাছের তলায় বেদি স্থাপন করে দেবীর বোধন করা হয়।

আরও পড়ুন: বালি কৈলাস ব্যানার্জি লেনে মা বিপদতারিনী পুজিত হন দুর্গারূপে, জানুন এই পুজোর ইতিহাস

প্রতিদিন দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয় এবং অঞ্জলি দিতে আসেন গ্রামের মানুষজন। অষ্টমীর দিন গোটা গ্রাম একত্রিত হয়ে খিচুড়ি ও পায়েস খেয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। প্রথা মেনে অধিকাংশ স্থানে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন হলেও, খাটুয়া বাড়িতে তা হয় দ্বাদশীতে। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর মিষ্টিমুখ করানো হয় গ্রামের সকল মানুষকে।

খাটুয়া বাড়ির সদস্যরা বলেন, “আমাদের পুজো হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল। তখন সময় খুব কম ছিল। কিন্তু গ্রামের মানুষজনও পুজো দেখতে পারবেন এই ভাবনা থেকেই আমরা আয়োজন করেছিলাম।” পারিবারিক হলেও এই পুজো আজ প্রকৃত অর্থে সর্বজনীন। যেখানে গ্রামবাসীদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ খাটুয়া বাড়ির দুর্গাপুজোকে করেছে বিশেষ এবং সমৃদ্ধ।

দেখুন অন্য খবর 

Read More

Latest News

toto DEPOBOS