ওয়েব ডেস্ক: শহর জুড়ে ফ্যস্টিভ মুড। আর কয়েকদিন পরেই বড়দিন (Christmas 2025)। আলোর মালায় সেজে উঠেছে পার্ক স্ট্রিট। বড়দিন মানেই কেক-ক্রিসমাস ট্রি, আর ঝোলা কাঁধে সান্তা (Santa Clause)। লাল জোব্বা পরা, সাদা দাড়িওয়ালা তাঁর চেহারা বছরের পর বছর অপরিবর্তনীয়। তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু তাঁর বয়স বাড়ে না। রাতের বেলা গভীর ঘুমে ডুবে থাকা শিশুদের চুপিচুপি উপহার দিয়ে যাওয়া সান্তাবুড়োকে নিয়ে কৌতূহল যেন অনন্ত।
কিন্তু কীভাবে সান্টার এই লাল স্যুট তাঁর চিরপরিচিত রূপে পরিণত হল? এই ঐতিহাসিক বিবর্তন কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে উঠেছে এবং এর পেছনে রয়েছে দারুণ কিছু গল্প। সান্টাক্লজের কাহিনি নেওয়া হয়েছে সেন্ট নিকোলাসের আদলে। বর্তমান তুরস্কের মায়রা এলাকার ধর্মগুরু ছিলেন সেন্ট নিকোলাস। দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে তিনি সোনার কয়েন দিয়ে আসতেন। রাতেরবেলা সবাই যখন ঘুমিয়ে, তখন মোজার মধ্যে কয়েন ভরে জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিতেন। কিন্তু আজকে যেভাবে সান্টাকে চেনে গোটা বিশ্ব, গোড়ার দিকে মোটেও সেরকম দেখতে ছিলেন না সানটাক্লজ। লাল নয়, তাঁর পোশাক ছিল গাঢ় সবুজ রঙের। মনে করা হত, শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে বসন্তে প্রকৃতি সবুজ হয়ে ওঠার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সান্টার পোশাক ছিল সবুজ।
আরও পড়ুন: প্রথম নিউ ইয়ার পালিত হবে কোন দেশে?
প্রথম দিকে কিন্তু সান্টার পোশাক বিভিন্ন রঙের ছিল। যেমন সবুজ, নীল, হলুদ বা বাদামি, এই সব। তবে ১৯৩০-এর দশকে এটি এক নির্দিষ্ট রূপ পায়। লাল রঙের জোব্বা পরা চেহারা তখন থেকেই পরিচিত হয়। ১৯৩১ সালে কোকা-কোলা তাদের ক্রিসমাস বিজ্ঞাপনের জন্য সান্টার একটি চিত্র তৈরি করে। শিল্পী হ্যাডন সানডব্লম সান্টাকে একটি উজ্জ্বল লাল স্যুট পরিয়ে উপস্থাপন করেন, যা ছিল কোকা-কোলার ব্র্যান্ড রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর হাত ধরেই লাল-সাদা পোশাকের সান্টাক্লজ গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই ধারা অব্যাহত আজও।







