দেশ জুড়ে বিরোধী দলগুলোর একটা মঞ্চ হয়েছে বটে, কিন্তু মূলত সিপিএম এর নেতৃত্বেই এক টগর বোষ্টমিপনা সেই কবে থেকেই চলছে। আমরা সারাদেশের রাজনীতির জন্য মঞ্চ গড়েছি, কিন্তু রাজ্যে রাজ্যে আমরা লাড়াই লড়ব। কিন্তু এটা মূলত সিপিএম এর সমস্যা, অন্য কারওর তেমন একটা নয়। সমস্যাটা কোথায়? ১) কেরালাতে সিপিএম কে কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই লড়তে হয়। ২) তৃণমূল (TMC) সেই কবে তাদের ভাত মেরে দিয়েছে, ২৩৫ থেকে তাঁরা এখন শূন্য। কাজেই তৃণমূল এর সঙ্গে এই বাংলাতে জোট সম্ভব নয়। এরপরে সিপিএম আছে কোথায়? তারা সেই চারা ঘোতালা থেকে জমি ঘোটালাতে অভিযুক্ত লালু যাদব, তেজস্বী যাদবের (Tejashwi Yadav) সঙ্গে জোট করতে পারে, সিপিএম বিধায়ক অজিত সরকারের খুনীকেও সমর্থন দিতে পারে। বাবরি মসজিদ ভাঙার দায় খুল্লম খুল্লা বিজেপিও (BJP) নেয়নি, নিয়েছিলেন বাল থ্যাকারে, সেই শিবসেনার সঙ্গেও তাঁদের জোটে কোনও অস্বস্তি নেই। কিন্তু বাংলাতে মমতায় আছে, কেরালা কংগ্রেসকে (Congresses) তো তারা বিজেপির আরেক মুখ বলে। আসলে কিছুই না, এই দুই রাজ্যেই সিপিএম এর যা কিছু সঞ্চিত ধন আছে, বাংলা গেছে, এবারে কেরালা গেলে এক্কেবারে নাথবতী অনাথবৎ হয়ে যাবে। কংগ্রেস সম্ভবত সারা দেশের রাজনীতির কথা ভেবেই এক সাধারণ জাতীয় নীতি নেবার মুখে দাঁড়িয়ে, সেটার একটা ইঙ্গিত আমরা দেখতে পেলাম, গতকাল কেরালা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের ভি ডি সতীশন জানিয়ে দিয়েছেন যে তৃণমূল দলকে ইউডিএফ এ সামিল করা হচ্ছে। সেটাই বিষয় আজকে, কেরালায় তৃণমূল এখন ইউ ডি এফ শরিক, যোগ দিল কংগ্রেস জোটে।
না আঁচালে বিশ্বাস নেই, মানে এই সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর অনুমোদিত কিনা তাও জানা নেই, কিন্তু মনে হয় এতবড় সিদ্ধান্ত কেরালা তৃণমূলের পি ভি অনবর নিজে নিজেই নিয়ে নেন নি, এর পেছনে সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সায় আছে। কেরালাতে তৃণমূলের ক্ষমতা কত? একটা এম পি আসনের বাইরে খুব একটা নেই। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এক বিরাট ব্যাপার। একটা সময়ে রাহুল গান্ধীর সিপিএম নির্ভরতা বা বলা ভালো ইয়েচুরি নির্ভরতা নিয়ে অনেকে মজাও করতো, কিন্তু ক্রমশঃ একমাত্র কেরালাতেই টিঁকে থাকা সিপিএম যে জাতীয় রাজনীতিতে আর তেমন কার্যকরী শক্তি নয়, এটা সামনে আসার পর থেকেই কংগ্রেসে সিপিএম নির্ভরতা কমিয়ে কার্যকরী শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট তৈরি করার চিন্তাভাবনা চলছিল, সেই কারণেই একটা মেসেজ দেবার জন্যই প্রথমে অধীর চৌধুরি বা দীপা দাসমুন্সীদের রাজ্য নেতৃত্ব থেকে সরানো হলো, আনা হল শুভঙ্কর সরকার কে, যিনি অনেক বেশি নমনীয়, নতুন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিতে দেবপ্রসাদ রায়কে মাথায় বসানো হলো এবং গতকাল কেরালাতে ইউ ডি এফ এ তৃণমূল কংগ্রেসকে সামিল করা হলো। এবং কিছু আসন দেবার বিনিময়ে যদি এ রাজ্যে কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেস জোট হয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর নিয়ে ভাবতে হবে না, এই অঞ্চলে ৫/৬ % কংগ্রেসের ভোট যোগ হলে এই জেলাগুলো সুইপ করবে কংগ্রেস তৃণমূল। এই সম্ভাবনার কথা আমরা আগে বলেছি, এখন কেরালাতে এই জোট হয়ার ফলে এই বাংলাতেও জোটের রাস্তা খুলে গেল। কংগ্রেস দলের কাজের পদ্ধতি, জোট সঙ্গী বাছা, ইত্যাদি তে বেশ খানিকটা পরিবর্তন, যাকে বলে বদলাও এর ছবি দেখা যাচ্ছে, অনেকেই জানেন না যে এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আর প্রশান্ত কিশোর এর একটা বৈঠক হয়েছে, সেখানেও দেশ জোড়া বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ওদিকে মনরেগা তুলে দিয়ে ভিবি জি রাম জি প্রকল্প আনা নিয়ে দেশ জোরা আন্দোলনের রাশ নিজের হাতে নিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, সেই আন্দোলনেও তৃণমূল বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। একসঙ্গে বিজেপি বিরোধী দলের রাজ্য সরকারগুলো এক প্রস্তাব নিতে চলেছে তাদের রাজ্যগুলোতে। সবমিলিয়ে আবার ইন্ডিয়া জোটের নতুন চেহারা আসতে চলেছে যেখানে তৃণমূল আর ডি এম কে আরও বড় ভূমিকা নেবে বলেই আমার ধারণা। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞাষা করেছিলাম, দেশ জুড়ে বিজেপির অগ্রগতিকে রুখতেবিরোধী দলগুলো এক মঞ্চে আসছে, কেরালাতে কংগ্রেস এর নেতৃত্বে ইউনাইটেড ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট এ যোগ দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, আপনাদের কি মনে হয় এ রাজ্যেও কংগ্রেসের তৃণমূলের সঙ্গে জোটে আসা উচিত? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন
আরও পড়ুন: Aajke | অভিজিৎ গাঙ্গুলির প্যাটিস খাবেন শুভেন্দু অধিকারি?
বিজেপি সারা রাজ্যে ১% ভোট আছে এমন ছোট দলের সঙ্গে জোট করেছে বিহারে, উত্তর প্রদেশে নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করতে। আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম আরামবাগের পার্টি মার্কসবাদী ফরোয়ার্ড ব্লক বা কোথাও না থাকা বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল।আসলে এই ছোট ছোট জোটগুলো অসম্ভব কার্যকরী হয়ে ওঠে, ভারতের নির্বাচনী পাটিগণিত সেটাই বলে। কেরালাতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস জোট হলে অন্তত একটা সংসদীয় এলাকাতে তাদের লাভ তো হবেই। সবচেয়ে বড় কথা দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই না করতে পারলে এরপর আর লড়াই করার স্পেস্টুকুও থাকবে না, সেটা বুঝেই বিরোধীদের এক মঞ্চে আসা উচিত। বাংলাতেও কি কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস জোট হবে? আপাতত সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে ঝুলে ছিল, কেরালাতে জোট হবার পরে সম্ভবত সেদিকে এক পা এগিয়ে গেল সেই সম্ভাবনা।







