ওয়েব ডেস্ক: ভেনেজুয়েলা (Venezuela) ‘দখল’ ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ভেনেজুয়েলার পর এবার তাঁর নিশানায় কলম্বিয়া, মেক্সিকো এবং কিউবা। এই তিন দেশকে মাদক ব্যবসার আঁতুড়ঘর বলেও কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প।
শনিবার ভেনেজুয়েলায় ঢুকে সেদেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তাঁর অভিযোগ, এতে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে আঘাত লেগেছে এবং গোটা লাতিন আমেরিকায় মানবিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে। মাদুরোর সঙ্গে পেত্রোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও নতুন নয়। এই অবস্থানেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। পেত্রোকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য,
“ওরা কোকেন তৈরি করে আমেরিকায় পাঠাচ্ছে। নিজের দেশ নিয়ে ভাবা উচিত ওঁর।”
আরও পড়ুন: ‘কারও দাসত্ব করবে না ভেনেজুয়েলা,’ ট্রাম্পকে আক্রমণ দেলসি’র
ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর আগেই ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনিজুয়েলার একাধিক জাহাজ ধ্বংস করে আমেরিকা, বাজেয়াপ্ত করা হয় তেলের ট্যাঙ্কারও। রকেট হামলার ঘটনাও সামনে আসে। সেই সময়ই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন কেন্দ্রগুলিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সেই মন্তব্যকে আগ্রাসী মনোভাব বলে আক্রমণ করেছিলেন পেত্রো। ফলে মাদুরোকে বন্দি করার পর ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শুধু কলম্বিয়া নয়, মেক্সিকো ও কিউবাকেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন,
“কিউবা নিয়েও কথা হবে।” মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও যোগ করেন, “আমি হাভানায় থেকেছি, সরকারে কাজ করেছি। আমি হলে উদ্বিগ্ন হতাম।”
এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেক্সিকো নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। জানান, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লউদিয়া শেনবউমের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। মাদকচক্র ধ্বংস করতে আমেরিকার সেনা পাঠানো প্রয়োজন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ট্রাম্পের কড়া বার্তা, “পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার কর্তৃত্ব নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিউবা ও মেক্সিকো—দু’দেশই ভেনিজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের নিন্দা করেছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল লেখেন, ভেনিজুয়েলার উপর “অপরাধমূলক আক্রমণ” চালানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লউদিয়া শেনবউমের অভিযোগ, রাষ্ট্রপুঞ্জের বিধি লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাচিও লুলা ডা সিলভাও আমেরিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, সব সীমা ছাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের রাজনীতিতে বহির্শক্তির হস্তক্ষেপের ফল ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলা থেকে মাদুরো দম্পতিকে বন্দি করে আনা এবং কার্যত নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণাকে ঘিরে আমেরিকার ভিতরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের আগ্রাসী বিদেশনীতি দেখে অনেকেই অবাক নন। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরেই তিনি কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলেছেন, এমনকি গ্রিনল্যান্ডকে উপনিবেশে পরিণত করার মন্তব্যও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ভেনিজুয়েলার পর লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ?







