ওয়েব ডেস্ক : সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছিল বাজেট (Budget)। সেখানে ‘বাংলার যুব সাথী’ (Yuva Sathi) নামে একটি নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকার। যে প্রকল্পে পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসিক ১৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। কিন্তু এই প্রকল্পকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এক ব্যক্তির কমেন্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো বিষয়টি বদভ্যাসে পরিণত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
শভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) তরফে সমাজমাধ্যমে একজন ব্যক্তির কমেন্ট শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে সুপ্রতিম চন্দ্র সরকার নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, “যুবসাথীতে আমি নিজেকে এনরোল করছি না। আমি আমার কোনও তথ্য এই সরকারে দিতে রাজি নই, ২০১২ সালে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্কে এনরোলমেন্ট করিয়েছিলাম, যুবশ্রী প্রকল্পে..ভাওতা দিয়ে তথ্য জমা করে.. টাকার এক ফোঁটাও পাওয়া যায়নি। আমার ব্যক্তিগত মতে, ভোটের আগে এটাও ভাওতা দিচ্ছে.. তবে, সরকারি প্রকল্পে সবাই নিজেকে অবশ্য এনরোল করান.. এটা আমার ট্যাক্সের টাকা.. কারোও ব্যাক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
এটি শেয়ার করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “আমার ব্যক্তিগত মতামত হল এই ভদ্রলোকের বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক কারণ শুধু উনি একা নন, ওনার মতোই সতেরো লক্ষ যুবক/যুবতী একই রকম ভাবে ফর্ম ভরে প্রতারিত হয়েছিলেন। আর ইদানিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে অযথা লাইনে দাঁড় করানো বদভ্যাসে পরিণত করেছেন। যে কাজ আজকের দিনে অত্যন্ত সহজে বাড়িতে বসে অনলাইনে করা যায়, অহেতুক তার জন্য পয়সা খরচ করে অমুক ক্যাম্পে যাও, তার পর দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করো…” সঙ্গে লিখেছেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষকে হয়রানি ভোগান্তির অভিজ্ঞতা করানো ওনার আদর্শ কার্যপ্রণালী (SOP) হয়ে গেছে। বিগত দু’মাস ধরে নিজের দলের অনুগত বিএলওদের ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃত ভুল ত্রুটি ঘটিয়ে মানুষকে এসআইআর এর শুনানিতে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন, এবার পালা বেকার যুবক যুবতীদের।” তিনি আরও লিখেছেন, “তবে শুধু লাইনে দাঁড়ানোর হয়রানি নয়, সাথে দোসর পুলিশের মার! উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়, মালদার চাঁচলে বেকার ভাতার আবেদন করতে গিয়ে জুটছে পুলিশের লাঠি!”
আরও খবর : ফের শহরে ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনা, মৃত ২
শেষে তিনি লিখেছেন, “কখনো ‘যুব সাথী’ কখনো ‘যুবশ্রী’, নাম পাল্টে ভাঁওতা দেওয়ার অভ্যাস একই, কিন্তু দেউলিয়া রাজ্যে প্রতিভার মূল্যায়ন অস্তিত্বহীন ও শিল্প, কল-কারখানার অভাবে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ হতশ্রী !!! তাই প্রথম থেকেই জোর করে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করে, বেকার বলে দাগিয়ে না দিয়ে, সসম্মানে বাড়ি থেকে ফর্ম পূরণ করার সুযোগ করে দিলেই ভালো হতো। ক্যাম্পে পুলিশ ও মোতায়েন করার প্রয়োজন হতো না। আর এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চাকরিপ্রার্থীদের, পরীক্ষা দিয়ে চাকরি না পাওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে চাকরি হারা ‘বেকার’-দের পেটানোর অভ্যাস রয়েছে, বেকার ভাতার আবেদনকারীদের আবার কেন পুলিশের লাঠির ঘা খাওয়ানো?”
মূলত, রাজ্য বাজেটে এই যুবসাথী (Yuva Sathi) প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। বলা হয়েছে, শুধুমাত্র কর্মহীন প্রার্থীরাই এই সাহায্য পাবেন। আবেদনকারীকে মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। সঙ্গে মাধ্যমিক ও সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আবেদনকারীদের ৫ বছর পর্যন্ত এই সাহায্য করা হবে। কিন্তু রাজ্যের এমন প্রকল্পকে আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
দেখুন অন্য খবর :







