ওয়েব ডেস্ক : পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদে শতাব্দীপ্রাচীন একটি গুরুদ্বার (Gurdwara) ভেঙে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সরকারি অনুমতি ছাড়াই প্রায় ১২৫ বছরের পুরনো গুরুদ্বারটি গুঁড়িয়ে দেন। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। পরে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, গুরুদ্বারটি ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের বিক্ষোভের পর ঘটনাটি পাঞ্জাব সরকারের নজরে আসে। এরপর বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান প্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ সিং অরোরা। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গুরুদ্বারটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলির নিরাপত্তা জোরদার এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
আরও খবর : বিশ্বকাপের জয়ের উচ্ছ্বাসে মর্মান্তিক পরিণতি, মেক্সিকোতে প্রাণ গেল ৩ সমর্থকের
ভারতের (India) বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) এক বিবৃতিতে জানান, পাকিস্তানের মাটিতে শিখদের এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা গোটা ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের হামলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনার উপর আঘাত নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারের উপরও আক্রমণ।
উল্লেখ্য, গত মাসেই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার মারদান শহরে একটি গুরুদ্বারের তত্ত্বাবধায়ক প্রবীণ শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে শিখ সম্প্রদায়কে ঘিরে একাধিক ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা।
দেখুন অন্য খবর :







