ওয়েব ডেস্ক: মুসলিম হওয়ার ‘অপরাধ’। যাঁদের এ দেশে থাকারই অধিকার নেই, তাঁরা এসেছেন কম্বল নিতে! গরিব এবং দুঃস্থদের কম্বলদান করতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজস্থানের (Rajasthan) বিজেপি নেতা (BJP Leader Refuses Blankets) তথা টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ সুখবীর সিং জৌনপুরিয়া। জানা গিয়েছে, রাজস্থানের টঙ্ক এলাকার এই ঘটনা। নাম ধরে ধরে মুসলিম মহিলাদের চিহ্নিত করে তাঁদের থেকে কেড়ে নেওয়া হয় বিলি করা কম্বল। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘যারা মোদিকে গালি দেন তাঁদের এই কম্বল নেওয়ার কোনও অধিকার নেই।’সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে।
সুখবীর বিজেপির দু’বারের সাংসদ ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজস্থানের টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুরের সাংসদ থেকেছেন। সম্প্রতি ওই এলাকাতেই একটি কম্বলদান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিনি। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কম্বলের জন্য অপেক্ষারত মহিলাদের বেছে বেছে দান করছেন।কম্বল দেওয়ার আগে মহিলাদের নাম জিজ্ঞাসা করেন তিনি। সংখ্যালঘু নাম শুনেই ফুঁসে ওঠেন বিজেপি নেতা। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘নাম কী?’’ তার পর বলেন, ‘‘ও, না। ওদের এখানে থাকার অধিকার নেই। খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু এটাও সত্যি। আমার সোজা কথা। এর পর সংখ্যালঘু মহিলাদের এক দিকে সরে বসতে বলেন বিজেপি নেতা। তাঁরাও তা-ই করেন। পাশে দাঁড়ানো একজনকে সুখবীর বলেন, ‘এ সব আগে বলতে হয় তো।স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালি দেন তাঁদের কম্বল নেওয়ার কোনও অধিকার নেই। এই পদক্ষেপে কেউ আহত হলে আমার কিছু করার নেই।
আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীরে উড়ে আসা বেলুনে সাঁটানো পাকিস্তানি নোট! রয়েছে ফোন নাম্বার সহ স্ক্যানার
প্রাক্তন সাংসদের এ-হেন কাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন কয়েক জন।অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, এ ভাবে ভেদাভেদ করে দান করা কি একজন নেতার সাজে?’’ সুখবীরও জানিয়ে দেন, এই কম্বলগুলো সরকারি ত্রাণ নয়। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দান করছেন। তাই কাকে দেবেন, তিনি-ই ঠিক করবেন। ‘‘খারাপ বলো, ভাল বলো, এটাই… আমার ইচ্ছা, আমি কাকে কম্বল দেব’’— বলেই গাড়িতে উঠে চলে যান তিনি।পুরো বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ হরিশচন্দ্র মীনা প্রাক্তন সাংসদের ভিডিয়ো পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, এমন সব কাণ্ড সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। বিজেপি নেতার কম্বল না-দেওয়া এবং মন্তব্যের নিন্দা করেন তিনি।সুখবীরের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাত।







