কলকতা: বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সিভি আনন্দ বোস (C. V. Ananda Bose)। পশ্চিমবঙ্গের নতুন অস্থায়ী রাজ্যপাল হচ্ছেন আর এন রবি (RN Ravi Took Charge Governor in West Bengal)। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (M K Stalin)-এর সরকারের বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়েছে। তিনি এখন ভোটমুখী তামিলনা়ড়ুর রাজ্যপাল। ওই রাজ্যের পাশাপাশি ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং আইবি (ইন্টালিজেন্স ব্যুরো)-তে ছিলেন রবি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ঠিক বিধানসভা ভোটের আগেই আনন্দ বোসের পদত্যাগ রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ঠিক কী কারণে পদত্যাগ করলেন সিভি আনন্দ বোস, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্যপালের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না কি তাঁকে পদত্যাগ করানো হল? তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সম্ভবত তাঁকে পদত্যাগ করানো হল। ভোটের আগেই নতুন ‘সক্রিয়’ রাজ্যপাল নিয়ে আসাই কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। আর এন রবি কেন্দ্রের পছন্দের লোক , কেন্দ্রের নির্দেশে তামিলনাড়ু সরকারকে অনেক ট্রাবল দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের
তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন-এর সরকারের বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি-বিরোধী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে গত কয়েক বছরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। স্ট্যালিনের সঙ্গে বিরোধের জেরেই তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপালের দায়িত্বে আনা হল আর এন রবিকে। অনেক দিন ধরেই বিল অনুমোদন নিয়ে সমস্যা। বিধানসভায় পাস হওয়া কিছু বিল রাজ্যপাল সই না করে আটকে রেখেছিলেন। এতে রাজ্য সরকার আপত্তি করে। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। আদালত জানায় রাজ্যপাল বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারেন না এবং কিছু ক্ষেত্রে তাঁর পদক্ষেপ অবৈধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ বিতর্ক। তামিলনাড়ুর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। বিধানসভায় ভাষণ নিয়ে বিতর্ক। রাজ্য সরকারের লেখা ভাষণের কিছু অংশ পড়তে রাজ্যপাল অস্বীকার করেছিলেন। এতে রাজনৈতিক বিতর্ক হয়। ‘Tamil Nadu’ নাম নিয়ে মন্তব্য। রাজ্যপাল বলেছিলেন Tamil Nadu-এর বদলে “Tamizhagam” বলা যেতে পারে। এ নিয়েও রাজ্য সরকার আপত্তি জানায়।এতে তামিল রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক হয়।







