অভয়ার মা বলেছেন গতকাল যে, ওনারা নাকি মাত্র ক’দিন আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে উনি বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াবেন। ওনারা সেই শুরু থেকেই বহু বহু মিথ্যে বলেছেন, মৃত্যুর পর থেকে ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে বলেছেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন, এবারে এটা হল তাঁদের নতুন মিথ্যে। না, ওনারা সিদ্ধান্ত এখন নেননি, ওনারা বেশ ক’মাস আগে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ওনারা যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন, তখন নাকি ওনাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ‘আগে সিদ্ধান্ত নিন, তার পরে কথা’। এমনকি বিজেপিও ওনাদের ঘন ঘন স্ট্যান্ড বদলের ফলে ওনাদের উপরে আস্থা রাখতে পারছিলেন না, ওনারা দিল্লি থেকে নাম ঘোষণা করে দেবেন, এনারা বলবেন না, ‘আমরা একবারও বলিনি বিজেপির হয়ে দাঁড়াব’, এরকম এক উদ্ভট পরিস্থিতি এড়াতেই ওনাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ‘আগে নিজেদের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে বলুন, পরিস্কার করে তৃণমূল আর সিপিএম-এর বিরোধিতা করুন, তারপরেই নাম ঘোষণা করা হবে’। হ্যাঁ, ওনারা সেই নির্দেশ মেনেই গতকাল মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেছেন, এবারে বিজেপির হাতে তাস, তারা বহুবার চুড়ান্ত অপদস্থ হয়েছেন এনাদের হাতে, এটা দেখার যে, ওনারা তারপরেও অভয়ার মা’কে টিকিট দেয় কী না। শোনা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর জোরাজুরিতেই শেষমেষ টিকিট দেওয়া হবে। কিন্তু এখন যাই হোক না কেন, তাঁদের আত্মজার জঘন্য ধর্ষণ আর হত্যার সিঁড়ি বেয়েই ওনারা পাদপ্রদীপের আলোয় থাকতে চান। অনেকেই স্তম্ভিত, অবাক, না, আমরা এতটুকুও নই, আমরা তো সেই কবেই বলেছিলাম যে, ২৬-এ এনাদের নতুন ভূমিকা দেখার জন্য তৈরি থাকুন। আজ সেই মুখোশটা খুলে সামনে এসেছেন মাত্র। সেটাই বিষয় আজকে, মুখোশ খুলে সামনে এলেন অভয়ার বাবা-মা।
আমরা গত ১১ অগাস্ট ২০২৫-এ নিশ্চিত করেই এই কথাগুলো বলেছিলাম আমাদের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ অনুষ্ঠানের ১৩১৮ এপিসোডে। বলেছিলাম, দুঃখ হয়, কষ্টও হয়, ধর্ষিতা, খুন হওয়া মেয়েটির বাবা মা বিলকিস বানোর ধর্ষক, হাথরসের ধর্ষক, কাঠুয়ার ধর্ষকদের কাছে ধর্ষণের বিচার চাইছে, তাঁদের পাশে নিয়ে আন্দোলনের কথা বলছে। এবং এটাই যে ওনারা করবেন, সেটা বহু আগেই আমরা বলেছিলেম। ওনারা শোকের আবহকে ধরে রাখতে নিত্য নতুন ইভেন্টের খোঁজে আছেন। তাই ওনার কন্যার সতীর্থদের আন্দোলনে ওনার আর ভরসা নেই, ওনারা দিল্লিতে অমিত শাহের কাছে বিচার আশা করেন, ওনারা শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য বা দিলীপ ঘোষের কাছে ধর্ষণের প্রতিকার চান, যাঁদের ওনার কন্যার সতীর্থরা মঞ্চের ধারে কাছেও ঘেঁষতে দেননি। আর আজই বলে রাখছি, আগামী ২০২৬-এ এনাদের নতুন ভূমিকা দেখার জন্য তৈরি থাকুন। ওনারা সেই প্রথম দিন থেকেই ক্যামেরা বুম মাইক, টিভির পর্দা, খবরের কাগজের হেডলাইন ভালবেসে ফেলেছিলেন। শুরুর দিকে মনে হয়েছিল ওরকম এক ভয়ঙ্কর মৃত্যু, নিজের আত্মজার ওই পরিণতি হয়তো বা ওনাদের বোধবুদ্ধির উপরে সাংঘাতিক এক প্রভাব ফেলেছে; আজ একরকম, কাল অন্যরকম, তার পরের দিন আবার আরেকরকম বলে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এখন স্পষ্টই বুঝতে পারছি, ওনারা ওই টিভির পর্দা, খবরের কাগজের প্রথম পাতা থেকে বেরিয়ে আসতে চান না। হ্যাঁ, লিঙ্ক দিয়ে রাখলাম ডেস্ক্রিপশন বক্সে, দেখে নেবেন।
আরও পড়ুন: Aajke | অধীর ফিরতে পারবেন বিধানসভায়?
আমরা খুব পরিস্কার করেই জানতাম, ওনারা রাজনীতিকেই আঁকড়ে ধরবেন, ওই পাদপ্রদীপের আলো যাতে না হারিয়ে যায়। আর তার জন্য যতরকমের মিথ্যে বলার হয়, বলবেন। এর মধ্যে ফাটল ধরেছে জুনিয়র ডক্টরস সংগঠনে, বামেদের সঙ্গে থাকার চেয়ে আলো আর পরিচিতি, ক্যামেরা, টিভি নিউজ আর খবরের কাগজে জায়গা পাবার জন্যই তাঁরা এবার আরেক মরিয়া চেষ্টায় নামলেন। দুদিন আগে ওই পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাসগুপ্ত গিয়েছিলেন অভয়ার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে। না, সেদিনও কিছু বলেননি, এই কলতান দাসগুপ্ত অভয়া আন্দোলনের জন্যই জেল খেটেছেন। এবারে দিল্লি থেকে সবুজ সিগন্যাল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওনারা তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলতে চান, ওনারা সিপিএম যে আসলে তৃণমূল সরকারকেই রেখে দিতে চায়, সেই অভিযোগ নিয়েই মিডিয়ার সামনে ফেটে পড়লেন, ঝানু রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার মহড়া দিচ্ছেন ওনারা, কাজেই হাসলেন, আঙুল তুলে ভিক্টরি সাইন দেখালেন। শোক গিয়েছে বানের জলে ভেসে! সেই কবেই তো নাজিম হিকমত বলে গিয়েছেন, বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, সমস্ত শোকের আবহ থেকে বের হয়ে ধর্ষিতা খুন হওয়া অভয়ার মা এবারে বিজেপির টিকিটে পানিহাটির প্রার্থী হতে চলেছেন। এটাকে আপনারা কীভাবে দেখছেন? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
অভয়া আন্দোলনে অভয়ার সহপাঠি ডাক্তার বন্ধুরা রুদ্রনীল ঘোষ, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল তো ছেড়েই দিন, বিজেপির কনিষ্ঠতম নেতা কর্মীকে আন্দোলন ধরনার জায়গাতে ঘেঁষতে দেননি, যে সিবিআই-এর বিরুদ্ধে এই বাবা-মায়ের এত অভিযোগ, যে মহিলা কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন যে, অমিত শাহ তাঁদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি, সেই তাঁরা কোন আশ্বাসে, কোন চাহিদা নিয়ে নির্বাচনের বাজারে বিজেপির টিকিট নিতে নেমে পড়লেন? কোন প্রাপ্তিযোগের পরে তাঁদের মুখে হাসি, আর আঙুলে ভিক্টরি সাইন? হ্যাঁ, তাঁদের এই পদক্ষেপই বলে দেয়, এক মিথ্যের উপরে দাঁড়িয়ে থাকা এক আন্দোলন চলছিল কেবল এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে, সেই শোকের আবহে চিতার আগুনে যে যার মত হাত সেঁকে নিতেই একজোট হয়েছিলেন।
দেখুন আরও খবর:








