ওয়েব ডেস্ক: ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে বাংলা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) হাওয়া ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আর সেই উত্তাপের পারদ আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচনের ঠিক মুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বিতর্কিত পোস্ট এবং নির্বাচন কমিশনের ‘বার্নল-বোরোলিন’ সংক্রান্ত সার্কুলারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বার্নল রেখে দিন, এত গরম পুড়ে যাবেন, কথাটার অর্থ কী? প্রশ্ন তুললেন মমতা। বিরোধীদের কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সাফ বললেন, “হিম্মত থাকলে সরাসরি মানুষের সঙ্গে লড়াই করুন।”
দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) পেজ থেকে করা সেই পোস্টে একদিকে যেমন ভোটারদের অভয় দেওয়া হয়েছে, তেমনই অপরাধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা। আর সেই বার্তায় ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’-এর অনুষঙ্গ টেনেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। পোস্টের ক্যাপশনে ভোটারদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, “সকল মা, বোন ও ভাইদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।” এর পরেই সুর চড়িয়ে সমাজবিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা হয়েছে, “কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুন্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।” এদিন পিংলা ও তমলুকের সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনেই মমতা বলেন, ‘বার্নল নয়, আমরা আইসক্রিম দেব।’
আরও পড়ুন: সারদা-রোজভ্যালি-আরজি কর-বেকার ভাতা, বাছাই করা ইস্যুতে মমতাকে তোপ রাহুলের
‘‘বার্নল রেখে দিন, এত গরম, পুড়ে যাবেন, কথাটার অর্থ কী? ভাষাটার অর্থ কী? তার মানে বিজেপিকে সাপোর্ট না করলে অফিসারদের পুড়িয়ে দেবেন। কাল রায়গঞ্জে এক বয়স্ক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল পোস্টাল ব্যালটের ভোটটা বিজেপিকে দিতে হবে। কেন দেবে? আমাদের কি বন্ডেড লেবার পেয়েছে নাকি?’’বিদ্রুপের সুরে তিনি বলেন, ‘এত ভয় দেখানোর কী আছে? যারা বলছে বার্নল দিয়ে পুড়িয়ে দেব, তাদের বলুন, তোমাদের জন্য বার্নল নয়, আইসক্রিমই যথেষ্ট।’ কেন আইসক্রিম, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘এখন প্রচণ্ড গরম, আইসক্রিম খান, শরীর ঠান্ডা রাখুন। আমাদের সঙ্গে ওদের এটাই পার্থক্য, আমরা প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না।’এদিনের সভা থেকে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতেও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ১৫ তারিখে ডিলিমিটেশন বিল আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বাংলাকে বিভক্ত করা। একই সঙ্গে এনআরসি কার্যকর করার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে তিনি রাজ্যবাসীকে সতর্ক করেন।
বিজেপিকে তোপ দিয়ে মমতা বলেন, চোখে-মুখে সারাক্ষণ হিংসা-দাঙ্গা-সন্ত্রাস। বাংলা দখল করতে পারবে না, তাই ভোট কাটতে শুরু করে দিল। নতুন করে প্রমাণ দিতে হল আপনারা এদেশের নাগরিক কি না। আমি একটাই কথা বলি, ক্ষমতা থাকলে উত্তর দাও। ২০২৪-এর লিস্টে যদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারে বিজেপির, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারে, তা হলে ওই ভোটার লিস্টে কেন ৯০ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেল? তা হলে প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া উচিত প্রথমে।মমতা আরও বলেন, হিংসা তো তোমরা করো, আমরা তো করি না, এর প্রমাণ তো অনেক আছে! তোমাকে যদি শান্তি রক্ষা করতে হত, তুমি বাংলার পুলিশকে বিশ্বাস করতে। তা না করে বাংলার পুলিশের সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে আসছ কেন? সেন্ট্রাল ফোর্স দু’লক্ষ এসেছে, দাঙ্গার সময় পাওয়া যায় না। যুদ্ধের সময় পাওয়া যায় না, বন্যার সময় পাওয়া যায় না। সন্ত্রাসের সময় পাওয়া যায় না। যারা ৩৬৫ দিন আপনাদের রক্ষা করেছে, তাদের মুখে তালা-চাবি দিয়ে দিয়েছে।







