Opekkhay)মিউজিক্যাল শর্ট ফিল্ম)Musical short film) সোফিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে(Sofia International Film Festival) নির্বাচিত হয়েছে। প্রাপ্তি নয়, বরং না-পাওয়ার যে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সেই ‘অপেক্ষা’র অন্তহীন যাপনকেই পর্দায় তুলে ধরলেন শিল্পী বার্ণিনী চক্রবর্তী(Barnini Chakraborty) ও অয়ন মুখোপাধ্যায়(Ayan Mukherjee)। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁদের নতুন মিউজিক্যাল শর্ট ফিল্ম ‘অপেক্ষায়’। একাকীত্ব, স্মৃতি এবং সময়ের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এই সৃষ্টি, যা দর্শককে পৌঁছে দেয় অস্তিত্বের এক গভীর দর্শনে। ঘরানায় বলতে গেলে, এই কাজ কেবল একটি গান বা ভিডিও নয়; বরং সময়ের এক খণ্ডিত কোলাজ। যেখানে ব্যক্তির নিজস্ব স্মৃতি আর সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। পরিচালক ও শিল্পীদের কথায়, এই ছবিতে অপেক্ষাকে দেখা হয়েছে এক ‘জীবন্ত দশা’ হিসেবে। যেখানে গন্তব্য বা প্রাপ্তির চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে খোদ অপেক্ষার মুহূর্তগুলো।

গানের প্রতিটি ছত্রে এবং দৃশ্যায়নে ফুটে উঠেছে ক্লান্ত একঘেয়েমি আর নীরব সহনশীলতার গল্প। গানের কথায় উঠে এসেছে— “অল্প অল্প আমি অপেক্ষায় পুড়ি… ওরাও পোড়ে আমার সাথে”। এই ‘পোড়া’ যেমন যন্ত্রণার, তেমনই আবার তা এক প্রকার অভ্যাসেরও। স্মৃতির ভগ্নাংশগুলো বারবার ফিরে আসে পুনরাবৃত্তির হাত ধরে। সেখানে প্রতিটি কণ্ঠস্বর সহাবস্থান করে, জ্বলে ওঠে, আবার টিকে থাকে এক অদ্ভুত জেদ নিয়ে।
বার্ণিনী চক্রবর্তীর কণ্ঠে এক আশ্চর্য বিষণ্ণতা ও দৃঢ়তা খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির প্রতিটি ফ্রেম যেন এক একটি বিমূর্ত কবিতা। অয়ন মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দৃশ্যে দৃশ্যে ধরা পড়েছে খসে পড়া পাতার মতোই ঝরে যাওয়া কিছু মুহূর্ত। নিরুত্তাপ নিঃশ্বাস আর নিস্তব্ধ সংলাপের মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে চলে ভাঙাগড়ার এক অনন্ত খেলায়।
শর্ট ফিল্মটির মূল নির্যাস হল— শেষ থেকেই আবার শুরু হয় শুরু থেকে শেষের পথচলা। অপেক্ষায় যে কেবল মানুষ থাকে তা নয়, সময়ের গ্রহণে মানুষের ছায়ারাও যেন গায়ের রং পাল্টায়। শেষ পর্যন্ত এই ‘অপেক্ষা’ কোনো প্রাপ্তির আশায় নয়, বরং অপেক্ষার মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক স্পর্ধা।
বার্ণিনী ও অয়নের এই যৌথ উদ্যোগ বাংলা মিউজিক্যাল শর্ট ফিল্মে সুর আর দৃশ্য মিলেমিশে এক আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাস তৈরি করেছে।







