ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বের দুই ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পিচের মান নিয়ে উঠল বড়সড় প্রশ্ন। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড (Lord’s Cricket Ground) এবং গদ্দাফি স্টেডিয়ামের (Gaddafi Stadium) পিচকে অসন্তোষজনক বলে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council)। ফলে আইসিসির পিচ ও আউটফিল্ড পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী দুই ভেন্যুকেই একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং পাওয়া ভেন্যুকে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়। আর যদি কোনও পিচকে ‘আনফিট’ বা খেলার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, তাহলে সেই ভেন্যুকে তিন ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়।
লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ এবং লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে আয়োজিত পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া ওডিআই সিরিজের তৃতীয় ম্যাচের পিচ নিয়ে ম্যাচ রেফারিদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লর্ডস টেস্টের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, পুরো টেস্ট জুড়েই অতিরিক্ত সীম মুভমেন্ট দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি একাধিকবার বল অস্বাভাবিকভাবে নিচু থেকেছে এবং বাউন্সও ছিল অনিয়মিত। ম্যাচের প্রথম দিনেই ১৬টি এবং দ্বিতীয় দিনে ১৭টি উইকেট পড়া পিচের ভারসাম্যহীনতারই প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যাট ও বলের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য ছিল না এবং পিচ অতিরিক্তভাবে বোলারদের সহায়তা করেছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় দলে বৈভব সূর্যবংশী! মাঠে নামলে ভেঙে দেবেন শচীনের এই রেকর্ড
অন্যদিকে, গদ্দাফি স্টেডিয়ামের ম্যাচ রেফারি গ্রিমি লা বুরি তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন, পিচটি অত্যন্ত ধীরগতির ও নিচু বাউন্সযুক্ত ছিল। ফলে ব্যাটারদের রান তুলতে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পিনাররা সহায়তা পেয়েছেন এবং সেই প্রবণতা পুরো ম্যাচজুড়েই বজায় ছিল। তাঁর মতে, এই ধরনের পিচ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত নয়।
বর্তমানে লর্ডস ও গদ্দাফি স্টেডিয়ামের বিরুদ্ধে এর আগে কোনও ডিমেরিট পয়েন্ট ছিল না। তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ডিমেরিট পয়েন্ট পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। কোনও ভেন্যু যদি মোট ছয় বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট জমা করে, তাহলে ১২ মাসের জন্য সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আর ১২ ডিমেরিট পয়েন্টে পৌঁছালে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়ে ২৪ মাস পর্যন্ত হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কপি পাঠানো হয়েছে ইসিবি এবং পিসিবিকে। দুই বোর্ডের কাছেই আইসিসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ১৪ দিনের সময়সীমা রয়েছে।
দেখুন আরও খবর:







