ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভোপাল AIIMS-এ চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওষুধের বদলে ভুলবশত ফর্মালিন ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয় এক ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর। এরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে তিন বছরের ওই শিশু। আইসিইউ-তে নিয়ে গিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
মৃত শিশুর নাম সার্থক যাদব। সাগর জেলার বাসিন্দা সার্থক ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ভোপাল AIIMS-এ তার চিকিৎসা চলছিল। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একটি জীবনদায়ী ইনজেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটির আইভি লাইন ব্লক হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় যে সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়, তাতে ওষুধের পরিবর্তে ফর্মালিন ছিল বলে অভিযোগ। ফর্মালিন সাধারণত বায়োপসি নমুনা বা মৃতদেহ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত একটি বিষাক্ত রাসায়নিক।
অভিযোগ, ইনজেকশনের মাধ্যমে ওই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যায় সার্থক। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। সিপিআর-সহ জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, বায়োপসি পরীক্ষার জন্য আনা একটি ফর্মালিনভর্তি সিরিঞ্জ ব্যবহার শেষে যথাযথভাবে সরানো বা নষ্ট করা হয়নি। সেটি রোগীর বেডের পাশেই পড়ে ছিল। পরে ভুলবশত সেটিই চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয় বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
ঘটনার জেরে দুই নার্সিং আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে ভোপালের বাগসেওনিয়া থানার পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভিযুক্ত দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে এই মারাত্মক গাফিলতি ঘটল এবং এর জন্য আর কেউ দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসা প্রোটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।







