কলকাতা: বিধানসভা বিরোধী দলনেতা নির্বাচন মামলায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মামলা বিল্লদ্বল ভট্টাচাৰ্য বলেন, ৫৮ জনের মধ্যে ৫৬ জন স্পিকারের কাছে হাজির হয়ে মত জানিয়েছেন। ২ জন স্বাক্ষর করেছেন। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, আমার প্রশ্ন হল। যখন স্পিকার একই দল থেকে সমস্যা হচ্ছে তখণ ওই রাজনৈতিক দলের সব বিধায়ককে একসঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন না? ওই দলের বাকিদেরকে অলক্ষ্যে রেখে কেন সিদ্ধান্ত নিলেন? আমার প্রশ্নের উত্তর এখনও পেলাম না।
বাংলায় পালাবদলের পর এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলায়। বিরোধী দল তৃণমূল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Sovandeb Chattopadhyay) বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়ে চিঠি দেয় স্পিকারকে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। পরে একদল বিধায়ক নিজেদের বিক্ষুব্ধ হিসেবে দাবি করে সোজা চলে যান স্পিকারের কাছে। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। এই মামলা জল হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। মামলার শুনানিতে বিচারপতি বলেন, স্পিকার যখন রাজনৈতিক দল থেকে বাহিস্কারের চিঠি পেলেন। তারপরেও কি ওই ব্যক্তিকে স্পিকার বিরোধী দলনেতা করতে পারেন? বিল্লদল বলেন, উপস্থিত বিধায়কদের মতামতের ভিত্তিতে করেছেন। সেখানে সংখ্যাধিক্য বেশি ছিল। জয়দ্বীপ কর, বিরোধীদলনেতা ও চিফহুইপের আইনজীবী বলেন, বিরোধী দলনেতা পরিবর্তন এবং নির্বাচন করার আইনত অধিকার রয়েছে স্পিকারের। বিধায়কদের সংখ্যা তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আরও পড়ুন:হকার উচ্ছেদ মামলায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
জয়দ্বীপ কর বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ২১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও রাজ্যের বিধানসভার কোনও কর্মকর্তা বা সদস্য, যাঁকে এই সংবিধান এর অধীনে বিধানসভার কার্যপ্রণালী বা কার্য পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, অথবা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, তিনি উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য কোনো আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হবেন না। এখানে স্পিকার সংখ্যা তত্ত্বের বিষয়টিকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দিয়েছেন। বিধানসভাকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য। আবেদনকারী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী দলনেতার মানে হচ্ছে রাজনৈতিক দলের অবস্থান ঠিক করা। বিরোধী দলনেতা আইনসভার অবস্থান ঠিক করে না।ধরে নেওয়া যাক বিরোধী ৭৫ জন একদিকে আছে ৩ জন অপরদিকে আছে। স্পিকার কি তার মধ্যে থেকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করতে পারবেন না। স্পিকারকে নির্বাচিত করতে হবে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব মত।
এখানে রাজনৈতিক দলের বৈঠক করে রেজুলেশন নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এখানে রাজনৈতিক দলের সভাপতি বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করতে পারেন। সেটাই স্পিকার এর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কল্যাণ, এখানে প্রাধান্য পায় পলিটিক্যাল পার্টি নট লেজিসলেচার পার্টি।আইন বলছে পলিটিক্যাল পার্টি নমিনেটেড করবে। কল্যাণ, পলিটিক্যাল পার্টির সিধান্ত নেবে পেরেন্ট বডি। সেই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিতে পারে?
কল্যা, কাল থেকে বিধানসভা শুরু হচ্ছে যদি বিধানসভায় ভোট হয় সেখানে সিদ্ধান্ত নেবে কে পলিটিক্যাল পার্টি না লেজিসলেচার পার্টি।সেখানে পলিটিক্যাল পার্টির সিধান্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেবে না ম্যাডাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেবে। কল্যাণ বলেন, ঋতব্রতর পক্ষ থেকে সংবিধানের ২১২ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে বলি।ভারতীয় সংবিধানের ১৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভারতের সমস্ত দেওয়ানি ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা বিরোধী দলনেতার মামলার শুনানি শেষ রায়দান স্থগিত।অনুমান করা হচ্ছে আগামীকাল বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধী দলনেতা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা জারি করবেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।






