ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ সালের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাকে (Kailash Mansarovar Yatra 2026) ঘিরে ভক্তমহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ উৎসাহ। কারণ, তিব্বতি জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এ বছর ফিরে এসেছে বিরল ‘অগ্নি অশ্ব বছর’ (Fire Horse Year), যা প্রতি ৬০ বছরে একবার আসে। এই বিশেষ সময়কে ঘিরে বহু ভক্তের বিশ্বাস, কৈলাস পর্বতের আধ্যাত্মিক শক্তি অন্য বছরের তুলনায় আরও বেশি জাগ্রত থাকে (Tibetan Astrology)।
কৈলাস-মানস সরোবর শুধু হিন্দুদের কাছেই নয়, বৌদ্ধ, জৈন এবং বন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। হিন্দু বিশ্বাসে এটি ভগবান শিবের আবাস, আবার বৌদ্ধ ধর্মে কৈলাসকে মহাজাগতিক আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপের দাপটে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, আজও ঝড়-বৃষ্টির দাপট কলকাতাসহ একাধিক জেলায়
তিব্বতি পঞ্জিকা অনুযায়ী, অশ্ব বছর শক্তি, স্বাধীনতা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক। তার সঙ্গে অগ্নি উপাদানের সংযোগ শুদ্ধি ও রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই কারণেই বহু তীর্থযাত্রীর বিশ্বাস, ২০২৬ সালে কৈলাস দর্শন ও পরিক্রমার বিশেষ ধর্মীয় মাহাত্ম্য রয়েছে।
কৈলাস পরিক্রমা বা ‘কোরা’ প্রায় ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এক দুর্গম পথ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বহু হাজার মিটার উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই এই পরিক্রমা সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিত বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী, অগ্নি অশ্ব বছরে একবার পরিক্রমা করলে সাধারণ বছরের ১৩ বার পরিক্রমার সমতুল্য পুণ্য অর্জিত হয়। যদিও এই বিশ্বাসের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু ধর্মীয় আস্থার কারণে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
পাশাপাশি মানস সরোবরেও পবিত্র স্নানের জন্য ভক্তদের ভিড় বাড়ে। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সময় সেখানে স্নান করলে অতীতের পাপক্ষয় ও আত্মশুদ্ধির পথ সুগম হয়। সব মিলিয়ে, বিরল জ্যোতিষীয় যোগ এবং গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ২০২৬ সালের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।







