কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Incident) তদন্তে জোরদার তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে আরও তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগেই তাঁদের আটক করা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ হেফাজতের আবেদনও জানানো হতে পারে।
পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার রাতভর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জেরায় এক ধৃত দাবি করেছে, নাবালিকাকে অপহরণ করে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। তবে তদন্তে এই বয়ানের সঙ্গে মিল পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। কারণ, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অপহরণের পর কোনও মুক্তিপণ চেয়ে ফোন বা বার্তা আসেনি। এই অসঙ্গতিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপের দাপটে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, আজও ঝড়-বৃষ্টির দাপট কলকাতাসহ একাধিক জেলায়
ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। বারুইপুর থানার পাশাপাশি এসটিএফের সদস্যরাও রাতভর অভিযানে অংশ নেন। ঘটনার নেপথ্যের পুরো চিত্র জানতে ধৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার পরিবারকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার ভবানীভবনে দেখা করার জন্য ডেকেছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বারুইপুর থানায় এখনও পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। একটি নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে, অন্য দুটি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের উপর হামলা এবং এক অভিযুক্তের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজ্যজুড়ে।







