কলকাতা: প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার তদন্তে ফের নড়াচড়া শুরু হল। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Pargana) গোবরডাঙায় (Gobardanga) বরুণ বিশ্বাসের (Barun Biswas) বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তদন্তকারীরা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের দাবিতে পরিবারের আবেদন এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে গুলি করে খুন করা হয়েছিল শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে। সুটিয়া কাণ্ডে ধর্ষণ, তোলাবাজি এবং সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সরব ছিলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
আরও পড়ুন: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার, বাংলায় হবে নতুন বিনিয়োগ?
বরুণের দিদি প্রমীলা রায়ের অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রকৃত তদন্ত হয়নি। প্রভাবশালীদের আড়াল করতেই তদন্তকে ভিন্ন খাতে চালিত করা হয়েছিল। তাই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
এই মামলায় আগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের মধ্যে একজনের জেলেই মৃত্যু হয়। বাকিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। পরিবারের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। সেই কারণেই নতুন করে তদন্ত শুরু এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার সিআইডি আধিকারিকেরা পরিবারের বক্তব্য নথিভুক্ত করেন এবং তদন্ত সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে বহু বছর পর মামলাটি নতুন করে সক্রিয় হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা।







