ওয়েব ডেস্ক : এক সময় যাঁকে ঘিরে হংকংয়ের (Hong kong) সংবাদমাধ্যমে গণতন্ত্রের ভাষা উচ্চারিত হত, সেই জিমি লাইকে (Jimmy Lai) কার্যত আজীবনের জন্য কারাগারে পাঠানো হল। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় এক মামলায় প্রাক্তন মিডিয়া টাইকুনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিল হংকংয়ের আদালত (Hong kong Court)। প্রতারণা মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর এই সাজা কার্যকর হবে লাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রতারণা মামলায় তিনি পাঁচ বছর নয় মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ফলে মোট সাজা কার্যত ২০ বছরেরও বেশি। ৭৮ বছরের লাইয়ের ক্ষেত্রে এই সাজা আজীবন কারাবাসের সমান বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
সাল ২০১৯। সেই বছর চীন (China) সরকারের প্রত্যর্পণ আইন নিয়ে তুঙ্গে পৌঁছেছিল বিরোধী বিক্ষোভ। তা নিয়ে স্বশাসিত হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২০ সালে করোনার সময়েও তা অব্যাহত থাকে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা বিল পাশ করে শি জিনপিং সরকার। অর্থাৎ, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করলে সেগুলিকে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই দেখা হবে। ফলে এই মানবাধিকারকে কোনও মূল্য না দিয়ে যখন তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা ও মামলা চালানো যায়। এই আইনেই গ্রেফতার করা হয়েছিল জিমি লাইকে। তার পরেই এবার ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল তাঁকে।
আরও খবর : মালয়েশিয়ায় নেতাজিকে স্মরণ মোদির, আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবীণ যোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ
২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রথম সারির যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লাই (Jimmy Lai)। একে একে গ্রেফতার হন অ্যাপল ডেইলি পত্রিকার শীর্ষ সাংবাদিকরাও। পুলিশের অভিযান, মামলা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের জেরে ২০২১ সালের জুনে বন্ধ হয়ে যায় এই জনপ্রিয় সংবাদপত্র। লাইয়ের সাজা ঘোষণার পর বেজিংয়ের সঙ্গে পশ্চিমি দেশগুলির কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আমেরিকা ও ব্রিটেন ইতিমধ্যেই এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে লাইয়ের মুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টারমারের সরকারও লাইয়ের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, হংকং-এর গণতন্ত্রকামীদের অন্যতম মুখ হলেন লাই। বেজিংয়ের (Beijing) স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বার বার সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর সংবাদপত্র ‘অ্যাপল ডেইলি’ বন্ধ হওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, হংকংয়ে থেকেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। কিন্তু আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, নয়া আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেই আশঙ্কা সত্যি হল। এবার আদালত তাঁকে ২০ বছরের সাজা শোনাল।
দেখুন অন্য খবর :







