ওয়েব ডেস্ক: মানুষ কি আর বিবর্তিত (Evolution) হচ্ছে না? দীর্ঘদিন ধরে এই ধারণাই প্রচলিত ছিল বিজ্ঞানমহলে (Scientific Research)। কিন্তু সেই ধারণাতেই এবার বড়সড় ধাক্কা। নতুন গবেষণা বলছে, মানুষের বিবর্তন থামেনি। বরং নীরবে, ধীরে ধীরে বদলেই চলেছে মানবদেহ ও বৈশিষ্ট্য।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক এক গবেষকদল সম্প্রতি ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায় তুলে ধরেছেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান ও অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানীরাও এই গবেষণায় শামিল ছিলেন। মূলত পশ্চিম ইউরেশিয়ার জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রায় সাত বছর ধরে চলে এই সমীক্ষা। বিশ্লেষণ করা হয় অন্তত ১৬ হাজার মানুষের ডিএনএ, সময়সীমা প্রায় ১০ হাজার বছর।
আরও পড়ুন: ব্রিটেনে নিলামে উঠছে ভারতের ঐতিহাসিক ‘জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কম্পিউটার’
গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষের শরীরে একাধিক বৈশিষ্ট্য সময়ের সঙ্গে বদলে স্থায়ী হয়েছে। যেমন, লালচে চুলের প্রবণতা বৃদ্ধি, পুরুষদের টাক পড়ার সম্ভাবনা হ্রাস, এমনকি মদ্যপানের প্রবণতা কমার মতো বৈশিষ্ট্যও বিবর্তনের মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি ফর্সা ত্বকের বিস্তার এবং কিছু রোগের ঝুঁকির পরিবর্তনও নজরে এসেছে।
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ‘অ্যালিল’ জিনের বিশেষ রূপ। বিজ্ঞানীরা মোট ৪৭৯টি নতুন অ্যালিল শনাক্ত করেছেন, যেগুলিকে প্রাকৃতিক নির্বাচন সময়ের সঙ্গে জোরদার করেছে। ডারউইনের ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ তত্ত্বকেই ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, শিকারি-সংগ্রাহক জীবন থেকে কৃষিনির্ভর সমাজে উত্তরণের পর থেকেই মানুষের বিবর্তন আরও দ্রুত হয়েছে। তবে কেন নির্দিষ্ট কিছু অ্যালিল অন্যগুলিকে ছাপিয়ে গেল, তার স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।
যদিও এই গবেষণা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সব বিজ্ঞানী এই তত্ত্বে একমত নন। তবুও একথা মানা হচ্ছে, মানুষের বিবর্তন নিয়ে নতুন করে ভাবার দরজা খুলে দিয়েছে এই গবেষণা এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর প্রভাব পড়তে পারে।







