ওয়েব ডেস্ক: ১৯৯৮ সাল থেকে বিভিন্ন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মহাশূন্যে (Space) ভেসে বেড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (International Space Station)। গত আড়াই দশকে ২৬ দেশের ২৯০-এর বেশি মহাকাশচারী সেখানে গিয়েছেন, থেকেছেন, নানা জটিল বিষয়ে চালিয়েছেন গবেষণা। কিন্তু এবার শুধুমাত্র ‘স্মৃতি’ হয়ে ইতিহাসের পাতায় চলে যেতে চলেছে এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। নাসা (NASA) জানিয়েছে, ২০৩০ সালেই আইএসএস-কে ধ্বংস করে পৃথিবীতে নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু কেন? কীভাবেই বা এটিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
১৯৯৮ সালের ২০ নভেম্বর আইএসএস-এর প্রথম মডিউল ‘জারিয়া’-কে উৎক্ষেপণ করা হয়। ২০০০ সাল থেকে মানুষ সেখানে নিয়মিত বসবাস শুরু করে। তবে আইএসএস কখনওই চিরস্থায়ী হওয়ার জন্য তৈরি ছিল না। দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে তীব্র তাপমাত্রার তারতম্য, বিকিরণ ও ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাত সহ্য করতে করতে এর কাঠামো এখন বার্ধক্যের ছাপ দেখাচ্ছে। কিছু পুরোনো মডিউলে ছোট ফাটলও ধরা পড়েছে। নাসার মতে, ২০৩০ সালের পর এই স্টেশন চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। তাই নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ উপায়ে অবসরই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন: মহাকাশের গুপ্তচর! ভারতের হাতে এল এমন প্রযুক্তি, যা দেখে অবাক বহু দেশ
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে পৃথিবীতে নামানো হবে আইএসএস-কে? নাসা সূত্রে খবর, প্রায় ৪০০ টন ওজনের এই বিশাল কাঠামোকে নামিয়ে আনতে একটি বিশেষ ‘ডি-অরবিট ভেহিকল’ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পেসএক্স-কে (SpaceX)। আইএসএস-এর সঙ্গে জুড়ে এটি ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে ঠেলে অবশেষে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ‘পয়েন্ট নিমো’-তে (Point Nemo) ফেলা হবে। যদিও বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় আইএসএস-এর বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যাবে। আর অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রে তলিয়ে যাবে।
দেখুন আরও খবর:







