কলকাতা: গ্রেফতার হওয়া দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের মাঝেই সামনে এল নতুন দাবি। বাগুইআটির (Baguiati) এক জগন্নাথ মন্দিরের দানপাত্র থেকে লক্ষাধিক টাকা লুট এবং দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন মন্দির প্রতিষ্ঠাতা দেবকুমার দাশগুপ্ত। ইতিমধ্যেই অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
৮৬ বছর বয়সি দেবকুমার দাশগুপ্তের দাবি, বহু মানুষের সহযোগিতায় তিনি জগন্নাথ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর সহযোগীরা নিয়মিত মন্দিরে এসে টাকা দাবি করতে শুরু করেন। কখনও ৫ লক্ষ, কখনও ৮ লক্ষ টাকা করে তোলা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি মন্দিরের দানপাত্র থেকেও টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে হাড়হিম করা ঘটনা ! তদন্তে পুলিশ – KolkataTV
দেবকুমারবাবুর বক্তব্য, আর্থিক চাপে শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে মাত্র ৭ লক্ষ টাকায় মন্দিরটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তীর আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা না মিললেও, ভোটের আগে মে মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। সেই অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি এবং অন্যান্য অভিযোগের সূত্র খুঁজে দেখছেন। তবে এখনও পর্যন্ত আদালতে এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে।







