ওয়েব ডেস্ক : বাংলায় প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ। গার্ডেনরিচ (Garden Reach) শিপ বিল্ডার্সকে কেন্দ্র করে রবিবার পাঁচটি নতুন প্রকল্পের কাজের সূচনা হল। প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্পগুলির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গার্ডেনরিচের পাশাপাশি খিদিরপুর, শালিমার, রায়চক এবং ইছাপুরেও প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হয়েছে।
এই সম্প্রসারণের অন্যতম বড় অংশ রায়চক। প্রায় ৩২ একর নদীতীরবর্তী এলাকায় ২৫০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে তৈরি হবে নতুন জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র। সেখানে ৩৫৬ মিটার দীর্ঘ ওয়াটারফ্রন্ট, ৯৬ মিটার জেটি এবং ২০০ মিটারের ড্রাই ডকের পাশাপাশি স্লিপওয়ে ও লঞ্চিং প্যাডের ব্যবস্থা থাকবে। পরিকাঠামো তৈরি হলে ২০০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ এবং ৬০ হাজার ডিডব্লিউটি পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরির সক্ষমতা তৈরি হবে।
আরও খবর : গ্যাসের দামে ফের স্বস্তি! কলকাতায় কমল ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম
শালিমারের প্রায় ৪ একর জায়গার টিম্বার পন্ড কেন্দ্রকেও আধুনিক করা হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে। ১৩০ মিটার দীর্ঘ ড্রাই ডক সংস্কারের পাশাপাশি ১২০ মিটারের স্লিপওয়ে তৈরি হবে। মাঝারি আকারের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কাজও করা যাবে সেখানে। অন্যদিকে খিদিরপুরের দামোদর কেন্দ্রে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মাঝারি জাহাজ মেরামতের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ফেরি ও ছোট জলযান তৈরির পরিকাঠামো গড়ে উঠবে।
ইছাপুরের ওয়াইআইএলের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতেও বাড়ছে উৎপাদন ক্ষমতা। ৭৫০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে দুটি নতুন ইউনিট তৈরি হবে। ৩০০০ টন ক্ষমতার নতুন হেভি ডিউটি হাইড্রোলিক ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেসের মাধ্যমে বন্দুকের ব্যারেল, গোলাবারুদের বিভিন্ন অংশ এবং ভারী প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপকরণ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্টে সুপার অ্যালয় ফোর্জিং, সমরাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, রেলওয়ের অ্যাক্সেল এবং পারমাণবিক চুল্লির প্রয়োজনীয় অংশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকাঠামো বাড়ানোর ক্ষেত্রে গার্ডেনরিচের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং আগামী দিনে সেই পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত হবে। ৩৪০০ কোটি টাকার এই বিনিয়োগকে তিনি বাংলার জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর থেকেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রাজ্যে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।







