ওয়েব ডেস্ক : পাহাড়ের কোলে শান্ত হ্রদ, অথচ তার বুকেই লুকিয়ে বড় বিপদের আশঙ্কা। সিকিমে (Sikkim) চিহ্নিত হয়েছে ৪০টি উচ্চঝুঁকির হিমবাহ হ্রদ (Glacial Lakes)। এর মধ্যে ১৬টি রয়েছে সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে। হিমবাহ গলে হ্রদে জল বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে আচমকা নেমে আসতে পারে বিপুল জলরাশি।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৪০টি হ্রদের মধ্যে ১৬টি ‘এ’ শ্রেণির সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দু’টি ‘বি’ শ্রেণিতে এবং ৯টি ‘সি’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। আরও ১৩টি হ্রদ (lakes) এখনও শ্রেণিবদ্ধ হয়নি। হিমবাহের বরফ গলে নতুন হ্রদ তৈরি হওয়া এবং পুরনো হ্রদের আয়তন বাড়ার কারণে আগামী দিনে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
আরও খবর : দিল্লিতে মুষলধারে বৃষ্টি, এক ঘণ্টায় ৯টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া হল! জলমগ্ন বিমানবন্দর
সিকিম (Sikkim) অবশ্য এই বিপদ মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। উপগ্রহচিত্র ও দূরসংবেদী প্রযুক্তির সাহায্যে হ্রদগুলির জলস্তর, আয়তন এবং পরিবর্তনের উপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা এবং সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ শাকো ছো হ্রদকে ঘিরে। এটিকে সিকিমের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হ্রদের জলস্তর কমাতে সৌরশক্তিচালিত পাম্প বসানোর প্রস্তাবও রয়েছে। লোনাক ও গুরুদোংমার হ্রদের ক্ষেত্রেও আলাদা করে বন্যার জল আটকে রাখার কাঠামো এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরেই হিমবাহ হ্রদ থেকে জল নেমে আসার ভয়াবহ পরিণতি দেখেছিল সিকিম (Sikkim)। সেই ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয় এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবার নতুন করে ঝুঁকির তালিকা প্রকাশ্যে আসায় আগাম সতর্কতা ও বিপর্যয় মোকাবিলার উপর আরও জোর দিচ্ছে প্রশাসন। লক্ষ্য, হিমালয়ের কোলে তৈরি হওয়া বিপদকে বড় বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আগেই ঠেকানো।







