ওয়েব ডেস্ক : মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভয়াবহ হড়পা বানে (Flash Flood) তছনছ হয়ে গিয়েছে নেপালের (Nepal) বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পরেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ এখন কার্যত ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কারও মাথার উপর ছাদ নেই, কারও হারিয়ে গিয়েছে জীবিকা ও সঞ্চয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্কুল-সহ বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে থাকা মানুষদের লাইনে দাঁড়িয়ে সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারি রেশন। চাল, ডাল, জল, কম্বল, রুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে দুর্গতদের। ক্ষতিগ্রস্তদের নাম ও ঠিকানা নথিভুক্ত করে তৈরি করা হচ্ছে ‘রিলিফ কার্ড’ (Relief Card)। এর মাধ্যমে আগামী কয়েক মাস সরকারি সহায়তা পাওয়ার কথা।
তবে ত্রাণ পৌঁছলেও নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে খাবার ও পানীয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। ধ্বংসস্তূপ এবং নদীর জলে এখনও দেহ পড়ে থাকার খবর রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে মাছি-পোকামাকড়ের উপদ্রব। ফলে খাবার দূষিত হয়ে সংক্রমণ ও বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের খাবার সংরক্ষণ ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
ত্রাণ শিবিরে থাকা এক শ্রমিক জানিয়েছেন, বন্যায় (Flood) তাঁর ঘর সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। ঘর তৈরির মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। কাজ করে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই ছিল তাঁর জীবনযাত্রা। এখন থাকার জায়গাটুকুও হারিয়ে হাসপাতালে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁকে। অন্য এক বাসিন্দা জানান, তাঁর বাড়ির অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বন্যার জলে হারিয়েছেন ব্যবসারও বড় অংশ।
বন্যার ধাক্কা পড়েছে শিশুদের জীবনেও। একটি স্কুল এখন আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় সেখানে আর নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না পড়ুয়ারা। খেলা আর অস্থায়ী আশ্রয়েই সময় কাটছে তাদের। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালে এই ভয়াবহ বন্যায় ১২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫০০০-এরও বেশি মানুষ।







