কলকাতা: কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) ঘিরে বিক্ষোভ, ‘চোর’ স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল বেলেঘাটা। রবিবার রাতে 28 নম্বর ওয়ার্ড পার্টি অফিসে কিছু ঘটনার প্রসঙ্গে। বেলেঘাটা (Beleghata)র ২৮নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ। তৃণমূল কাউন্সিলর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাড়ি না মেলার অভিযোগে বিক্ষোভ। তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে বসে থাকাকালীন বিক্ষোভের মুখে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। মোট ২৫২ টি পরিবার ছিল। একটি ব্লকে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এখনও তৈরি হচ্ছে বাকি ব্লক। ২০২৪ থেকে ২৫ অর্থ বর্ষে তাদের পুনর্বাসন কমপ্লিট করার কথা থাকলেও এখনো ঘর পাননি দেড়শ বেশি পরিবার।বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং অবস্থান চলে রবিবার রাতে। আজ, সোমবার কেএমডি-এর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ঘটনাস্থলে।
এই ঘটনা নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পোস্ট করে কুণাল বলেন, এলাকায় একটি বহুবিধ্বস্ত আবাসন ছিল। কমন শৌচালয়। ঝড়বৃষ্টিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রবল। জোড়াতালির মেরামতিতে চলছিল না। মানুষ সমস্যায় ছিলেন। রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। ২০২ থেকে আলোচনা শুরু। পরে 2022-এ কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী সক্রিয়ভাবে দফতরগুলিকে সমস্যাটা বলেন। শেষে KMDA প্রকল্পটি গ্রহণ করে।KMDAর প্রকল্পের মূল কথা: বিধ্বস্ত আবাসনের বাড়ি ভেঙে নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হবে। ঘরের বদলে ঘর, অর্থাৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে টু রুম অ্যাটাচ বাথ ফ্ল্যাট। ব্লক অনুযায়ী ভাঙা, নির্মাণ এবং ফ্ল্যাট দেবে KMDA. যখন একটি ব্লক ভাঙা হবে, তখন বাসিন্দাদের বিকল্প থাকার অস্থায়ী ব্যবস্থা হবে। সমন্বয়ের জন্য বাসিন্দাদের একটি কমিটি থাকবে। তাতে আমি অবশ্যই নেই।
KMDA কাজ শুরু করে। ব্লক ভেঙে নতুন ঝকঝকে টাওয়ার হয়েছে। যে টাওয়ার সম্পূর্ণ, সেখানে বাসিন্দারা থাকতেও শুরু করেছেন। কিছু অংশ বাকি আছে। কাজ চলছে। তবে কাজের গতি নিয়ে আমাদেরও অভিযোগ আছে। KMDAকে বলা হয়েছে। যে অংশ বাকি, তার বাসিন্দাদের বিকল্প জায়গায় থাকতে কষ্ট হচ্ছে। সেটাও জানানো হয়েছে। KMDA জানিয়েছে তারা আরও কিছু বাসিন্দাকে ফ্ল্যাট দেবেন। ইলেকট্রিক নিয়েও CESC সংক্রান্ত জটিলতার আলোচনা চলছে বলে জানি। যেহেতু প্রকল্পটি KMDAর, তাই এখানে আমার বা কোনো ব্যক্তির ভূমিকা নেই; তাড়া দেওয়া ছাড়া; ফ্ল্যাট দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। থাকার কথাও নয়।সেটা সকলেই জানেন। গতকাল রাতে যে কয়েকজন মহিলা তাঁদের ফ্ল্যাট পেতে দেরির কথা জানান, তাঁদের কষ্ট হচ্ছে, ঠিক। পাশাপাশি যে ‘জয় শ্রীরাম’ এবং আনুষঙ্গিক শ্লোগান, চিৎকার শুনলাম, তাতে বিষয়টা বুঝতেও পারলাম।
আরও পড়ুন:চাকরি, প্রশাসন, তেল দাম- একাধিক ইস্যু নিয়ে মুখোমুখি দিলীপ ঘোষ
ওই এলাকায় আমি সম্প্রতি একাধিকবার গিয়েছি, পুজোয় গেছি, ভোট প্রচারে গিয়েছি, ফলাফলের পর একা সকালে ওই পাড়ায় চা খেয়েছি; কেউ একটি অভিযোগের কথাও বলেননি। আমি তো এমনিতেই তাড়া দিই, কবে শেষ হবে। কাল রাতে ওঁরা প্রসঙ্গটি তোলায় আমি KMDA র অফিসারকে ফোন করি। ওঁরা বলেছেন ওখানে গিয়ে কাজের পরিস্থিতি দেখে যত দ্রুত সম্ভব কাজ এগোবেন। তবে বিজেপির শ্লোগান এবং আচরণ দেখে সবটা বুঝতে সুবিধা হল। একদম শেষে বিজেপিরই একটি অংশ বাড়াবাড়ি থামাতে চেষ্টা করে। আমাকে বার করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ওদের ধন্যবাদ দিয়ে বলি, কিছু ফ্ল্যাটে দেরির সমস্যায় একমত। আমরাও KMDA কে বলেছি। কিন্তু বিজেপির একাংশের যে আচরণ, তার জন্য আমাকে কাউকে বাড়ি পৌঁছতে হবে না। আমি একাই যাব। গাড়ি নয়, হেঁটে যাব।’ আমি সভাবেই ফিরি। আজ সকালেও পার্টি অফিসে বসেছি। তারপর কাজে বেরোচ্ছি।
যাঁরা বিজেপির হয়ে রাজনৈতিক আচরণ করলেন, তাঁদের বলেছি KMDAর কাজটা ভালো উদ্দেশ্যে। অনেকটা হয়ে গিয়েছে। এখন সরকার বদল হয়েছে। আপনারাও আপনাদের সরকারকে বলুন বাকি কাজের গতি বাড়াতে। বিধায়ক হিসেবে আমি পূর্ণ সহযোগিতা করব। বিধ্বস্ত আবাসন ভেঙে ঘরের বদলে নতুন অ্যাটাচ বাথ ফ্ল্যাট, এটা সত্যিই ভালো, মানুষের উপকারের। KMDAর কাজের গতিতে সমস্যা হচ্ছে, সেটা কাটানো দরকার। আর এটা সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক প্রচারে যা হচ্ছে, সেটা দেখছি, এখন দেখার সময়, সবাই দেখছেন।মিডিয়াকে অনুরোধ যাঁরা খবর করছেন, দয়া করে ঘটনাস্থলে যান। যে ফ্ল্যাট হয়ে গেছে, মানুষ থাকছেন, দেখুন, কথা বলুন। আর কেন বাকিটায় দেরি, KMDAকে জিজ্ঞাসা করুন। অন্য কোনো রাজনীতি এবিষয়ে হতে পারে না। ছবিগুলো দেখবেন। মানুষের উপকার করা, এলাকা ঢেলে সাজানো নিশ্চয়ই অপরাধ নয়।







