হুগলি: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) আগে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে। তারই মধ্যে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর (Second Hooghly Bridge) নীচে নির্মীয়মাণ একাধিক মাটির প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শিবপুরে (Shibpur)। ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রতিমা তৈরির কারখানার মালিকের সঙ্গে পুরনো বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।
নবান্নের কাছে শিবপুর মন্দিরতলায় দ্বিতীয় হুগলি সেতুর নীচে একটি মাটির প্রতিমা তৈরির কারখানা রয়েছে। কারখানার মালিক অচিন্ত্য ভট্টাচার্য মন্দিরের সামনের অংশে তৈরি হওয়া প্রতিমাগুলি রাখতেন। অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে রাখা কয়েকটি নির্মীয়মাণ মাটির প্রতিমা রাস্তায় ফেলে ভেঙে দেওয়া হয়।
আরও খবর : নেপালে হঠাৎ এই দুর্যোগের আসল কারণ কী জানেন?
শনিবার সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শিবপুর থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। সেই ফুটেজের সূত্র ধরেই সাহেব সিং রাজ নামে এক যুবককে চিহ্নিত করা হয়। পরে শিবপুরের গোলাম মুস্তাফা লেনের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কারখানার মালিকের পুরনো বিবাদ ছিল। মন্দিরের সামনে প্রতিমা রাখা নিয়ে দু’জনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই বিবাদের জেরেই শুক্রবার রাতে সাহেব মদ্যপ অবস্থায় প্রতিমাগুলি ভাঙচুর করেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।
তবে ঠিক কী কারণে এবং কী ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুজোর আগে প্রতিমা তৈরির কাজ যখন জোরকদমে চলছে, সেই সময় নির্মীয়মাণ প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ কারখানা মালিক এবং স্থানীয়রা। ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত বিবাদই দায়ী, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।







