কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে প্রথমবার মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ফেসবুক লাইভে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি খারিজ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের প্রতীক কেড়ে নেওয়া হলেও রাজনৈতিক লড়াই থামবে না। তাঁর কথায়, প্রতীকের আসল শক্তি নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতিতে নয়, মানুষের গ্রহণযোগ্যতায়।
মমতার দাবি, দলের সাংগঠনিক সংবিধান অনুযায়ী ২০২৭ সালে পরবর্তী সাংগঠনিক নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের পর দল অস্তিত্ব হারিয়েছে বলে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর প্রশ্ন, যদি সেই দাবি সত্যি হয়, তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই নেতারা কোন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন? প্রার্থী হিসেবে তাঁদের নামও তো দলীয় প্রক্রিয়াতেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পোলিও টিকাকরণে পিছিয়ে কলকাতা!
বিদ্রোহী নেতা-সাংসদ ও বিধায়কদের একহাত নিয়ে মমতা বলেন, মাত্র দু’মাসের মধ্যেই তাঁরা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিজেপির আদর্শে বিশ্বাস থাকলে প্রকাশ্যেই সেই দলে যোগ দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে দলের প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। যদিও তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ঠিক করবেন প্রকৃত তৃণমূল কোনটি।
প্রয়োজনে নতুন প্রতীক নিয়েও মানুষের কাছে যাওয়ার বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, রাজনৈতিক লড়াই প্রতীকনির্ভর নয়, মানুষের সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর কথায়, কণ্ঠরোধের চেষ্টা হতে পারে, কিন্তু আন্দোলন থামানো যাবে না। এই বক্তব্যে একদিকে যেমন বিদ্রোহী শিবিরকে পাল্টা বার্তা দিলেন তিনি, তেমনই কর্মীদেরও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন।







