ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ (Madhy Pradesh) হাইকোর্টের (High Court) গ্বালিয়র বেঞ্চে এমন এক মামলার শুনানি হল, যা শুনে কার্যত হতবাক বিচারপতিও। হেবিয়াস কর্পাস মামলার সূত্র ধরে আদালতে উঠে এল এক অদ্ভুত দাবি, দুই সহোদরা নিজেদের স্বামী ‘অদলবদল’ করতে চান!
ঘটনার শুরু দতিয়ার এক ব্যক্তির অভিযোগ দিয়ে। তাঁর দাবি ছিল, ভায়রাভাই তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে অপহরণ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত ও ‘অপহৃত’দের হাজির করতে।
আরও পড়ুন: এসি বিস্ফোরণ, ঘুমের মধ্যেই জীবন্ত পুড়ে মৃত্যু ৯ জনের, বাড়তে পারে সংখ্যা
কিন্তু আদালতে হাজির হওয়ার পরেই মোড় ঘুরে যায়। অভিযোগকারী ব্যক্তির স্ত্রী জানান, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় বোনের স্বামীর সঙ্গে থাকছেন। নিজের দাম্পত্যে অসন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি। এমনকি, বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও ইতিমধ্যে দায়ের করেছেন।
চমক আরও বাড়ে যখন অভিযুক্তের স্ত্রী অর্থাৎ ‘অন্য বোন’ আদালতে জানান, তিনিও নিজের স্বামীর সঙ্গে থাকতে চান না। বরং তিনি জামাইবাবুর সঙ্গেই থাকতে ইচ্ছুক। দুই বোন মিলে আদালতের কাছে সরাসরি আর্জি জানান, তাঁদের স্বামীদের ‘অদলবদল’ করার অনুমতি দেওয়া হোক।
বিচারপতি সকলের বক্তব্য শোনার পর স্পষ্ট করেন, এখানে অপহরণের কোনও প্রমাণ নেই। যাঁরা জড়িত, তাঁরা প্রত্যেকেই সাবালক এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সক্ষম। তাই বিষয়টি ফৌজদারি নয়, পারিবারিক সমস্যা হিসেবেই দেখা উচিত। শেষে আদালত জানিয়ে দেয়, কে কার সঙ্গে থাকবেন, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করুন। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হেবিয়াস কর্পাস মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। আইন, সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধ, সব কিছু নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।







