ওয়েবডেস্ক- মেনকা গুরুস্বামী, আইনজীবী (Lawyer Meneka Guruswamy) । এসআইআর মামলা ছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) , সেই রাজ্যের হয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। আবার প্রধান বিচারপতির কাছে তিরস্কারও শুনতে হয়েছে তাঁকে। এবার সেই আইনজীবী মেনকার গুরুস্বামীকে বাংলা শেখার পরামর্শ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Jaymalya Bagchi) । রাজ্যসভা নির্বাচনে এই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তিনি। এবার শপথ নেবেন সাংসদ হিসেবে। সেই আইনজীবী গুরুস্বামীকেই বাংলা শিখতে বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। ভরা এজলাসেই আইনজীবী গুরুস্বামীকে এই পরামর্শ দেন তিনি।
মঙ্গলবার এসআইআর শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি হয়। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মেনকার গুরুস্বামী। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানির শুরুতেই এ দিন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি, যেখানে উভয় পক্ষকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। এদিন রাজ্য সরকারের হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, আইনজীবী মেনেকা গুরুস্বামী বলেন, ৬০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা বড্ড দ্রুত মামলা ফাইল করেছেন। আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে জানতে পেরেছি ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ নামের নিস্পত্তি হয়ে গেছে। আইনজীবী গুরুস্বামী বলেন, আমরা কোনও আপিল ফাইল করিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্ট অনুযায়ী ১০ লাখের সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট পাবলিশ করা হোক। যাদের নাম বাতিল হয়েছে তারা যেন সিও-র কাছে আপিল করার সুযোগ পায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ একটু দেখুন।
আরও পড়ুন- প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল নির্বাচন কমিশন
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি, আমরা পরিষ্কার নির্দেশে জানিয়েছি ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা অন্তিম তালিকা নয়। একটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হবে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের উদ্বেগ হচ্ছে এখনও কোন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হয়নি। যদিও কাউকে বাদ দেওয়া হয় তাহলে কেন বাদ দেওয়া হল, আপিল করার সুযোগ দিতে হবে তো! প্রধান বিচারপতি, আপিল করার সুযোগ পাবেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১০ লক্ষ নামের নিস্পত্তি হয়েছে তাহলে সেই দশ লাখের নাম প্রকাশ করা যেতো। আমরা চাইছি অবিলম্বে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হোক। এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যদি আবেদন করতে বলেন আমরা তাই করব। যাদের নাম বাদ যাচ্ছে তাদের আপিল করার বিষয়ে যদি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে তাহলে আবেদন জানাব। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, আগে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে দিন। এখনও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।
আইজীবী মেনকার উদ্দেশে একের পর এক প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। মেনকা জানিয়েছিলেন তিনি আবেদন করেননি, রাজ্যের সওয়াল করেছিলেন। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ নামের কি ভোটের আগেই নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেছিলেন মেনকা। কখনও প্রধান বিচারপতি, কখনও বেঞ্চে থাকা অন্য বিচারপতিরা নানা মন্তব্য করেন। রাজ্যের হয়ে কখনও মেনকা ও কখনও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন। ছিলেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীও।
বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘আমি সব সময়ই পশ্চিমবঙ্গের ম্যাটার ভালবাসি।’’ এখানে ‘ম্যাটার’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি বিচারপতি। তার পরেই মেনকা বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করব এমন বিষয় আরও আনার।’’ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর কথা শুনে তার উদ্দেশে জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘এ বার বাংলাটা শিখে ফেলুন। উত্তরে মেনকা বলেন, আমি সেই চেষ্টাই করছি’। অধিকাংশ আইনজীবীদের মতে বিচারপতি বাগচী নেহাৎ মজা করেই আইনজীবী মেনকাকে বাংলা শেখার কথা বলেছেন।







