নয়াদিল্লি: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, নকশালবাদ-সহ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি আগেভাগে চিহ্নিত করে মোকাবিলার উপর জোর দেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য, কোনও দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিবেশ বজায় না থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর সুদীপ-কাকলিদের জবাব তলব লোকসভার স্পিকারের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনও নিরাপত্তা সমস্যা বড় আকার নেওয়ার পর তার মোকাবিলা করার বদলে ভবিষ্যতে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, নকশালবাদ কিংবা উত্তর-পূর্বের অশান্তির মতো সমস্যাগুলি আগে থেকেই শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তিনটি বড় ‘হটস্পট’-এর হুমকি সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শাহ। এই সাফল্যের জন্য রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা এখন থেকেই চিহ্নিত করার জন্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সীমান্তের গতিপ্রকৃতি এবং অপরাধের নতুন ধরন আগামী দিনে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের লক্ষ্য শুধু বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করা নয় বলেও জানান শাহ। বরং ভবিষ্যতে কোন কোন হুমকি বড় আকার নিতে পারে, তা আগাম অনুমান করে প্রতিরোধের কৌশল তৈরি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ সংকট তৈরি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে হুমকি বড় হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করতে হবে।
সাইবার অপরাধ, মাদক চক্র, সন্ত্রাসবাদ, অনুপ্রবেশ এবং সংগঠিত অপরাধের পাশাপাশি ভবিষ্যতের অজানা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের জন্যও প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। ২০৪৭-এর উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকেই অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন অমিত শাহ।







