পূর্ব মেদিনীপুর: ফের SIR (Special Intensive Revision) আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরে (Purba Midnapore)। এবার মেছেদার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শান্তিপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বরনান গ্রামের বাসিন্দা ৭৩ বছরের মৃত্যুঞ্জয় সরকারের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত ভয় ও দুশ্চিন্তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ (District news)।
মৃত্যুঞ্জয় সরকারের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে মন্টু সরকার শ্রমিকের কাজ করেন। মন্টুর দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন তাঁর বাবা। সেই চাপ আরও বেড়ে যায় যখন গত ৪ জানুয়ারি শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) দফতর থেকে হিয়ারিং-এর ডাক আসে।
আরও পড়ুন: এবার আরও রঙিন গঙ্গাসাগর! শুরু সাগর আরতি ও সংকীর্তন, শীতে ভিড় পুণ্যার্থীদের
প্রবল শীত উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয় সরকারকে ব্লক অফিসে নিয়ে যান তাঁর ভাইপো বিশ্বজিৎ সরকার। সেখানে তিনি ১৯৭১ সালের কিছু নথি দেখান বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই নথি যথাযথভাবে গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়ায় আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। পরিবারের দাবি, সেদিন থেকেই শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকে।
গতকাল গভীর রাতে হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হলে তাঁকে তড়িঘড়ি তামলুকের তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন আজ সকালে মৃত্যু হয় মৃত্যুঞ্জয় সরকারের। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত আতঙ্ক তৈরি করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি সাধারণ মানুষকে মানসিক চাপে ফেলছে, যার ফলেই এমন মৃত্যু ঘটছে। তাঁদের দাবি, এই মৃত্যুর দায় এড়ানো যায় না।
অন্যদিকে বিজেপি নেতারা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মৃত্যুঞ্জয় সরকারের মৃত্যু বয়সজনিত কারণেই হয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল অহেতুক রাজনীতি করছে বলেও পাল্টা দাবি বিজেপির। সব মিলিয়ে ফের একবার SIR আতঙ্ককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ল।







