ওয়েব ডেস্ক: রোহিঙ্গা (Rohingya) ও বাংলাদেশি (Bangladeshi) অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। মুম্বই পুরসভা নির্বাচনের ইস্তেহারে এমনই চমকপ্রদ ও বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজোট। তাঁদের দাবি, প্রযুক্তির সাহায্যে বহিরাগতদের চিহ্নিত করে মুম্বইকে (Mumbai) ‘স্বচ্ছ’ ও ‘নিরাপদ’ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তার জন্য পুরসভার শাসনভার মহাজোটের হাতে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে ভোটারদের কাছে।
বৃহন্নুম্বই পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হতেই রবিবার মহাজোটের ইস্তেহার প্রকাশ করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। ইস্তেহারে একাধিক নাগরিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ফড়ণবিস জানান, মহাজোট ক্ষমতায় এলে নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তিকে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্যানসার নিরাময় গোমূত্র! বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশে প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি
ইস্তেহারে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত করার প্রতিশ্রুতি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা একদিকে দুর্নীতিমুক্ত পুরসভা গড়ব, অন্যদিকে বহিরাগত, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের দেশছাড়া করব। আইআইটির সাহায্যে বাংলাদেশি অভিবাসীদের শনাক্ত করতে একটি এআই টুল তৈরি করা হবে।” সেই প্রযুক্তির মাধ্যমেই মুম্বইকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুক্ত করার দাবি করেছেন তিনি।
এছাড়াও মহিলাদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ, বাসভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়-সহ একাধিক সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘বস্তিমুক্ত মুম্বই’ গড়ার ঘোষণা। ধারাভির মতো এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বস্তিমুক্ত শহর গড়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মধ্য মুম্বইয়ের প্রায় ৩০০ একর এলাকায় বিস্তৃত ধারাভিতে বাস করেন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ। গত ১৫ বছর ধরে ধারাভি পুনর্বিকাশ প্রকল্প বারবার থমকে গিয়েছে। ২০২২ সালে ৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকায় আদানি গোষ্ঠীকে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আশঙ্কায় রয়েছেন—উন্নয়নের নামে ধারাভির নিজস্বতা হারিয়ে যাবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।







