কলকাতা: ‘মিনি পাকিস্তান’ (Mini Pakistan) মন্তব্য ঘিরে কলকাতা পুরসভার (KMC) অধিবেশনে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। বিতণ্ডায় জড়ালেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) ও মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ‘মিনি পাকিস্তান’ ইস্যু তুলে ধরে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) কে নিশানা করলেন সজল। এনিয়ে ফিরহাদ বলেন, যে বা যারা আমার বিরুদ্ধে মিলি পাকিস্তান বা অন্য অন্য ধরনের কমিউনাল কথা বলছেন, তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। তারা যদি কোথাও কোন মিডিয়ায় আমার একটা বাইট দেখাতে পারেন তা হলে শুধু মেয়র পদে নয়, রাজনীতি থেকে অবসর নেব, চ্যালেঞ্জ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের।
ফিরফাদ আরও বলেন, পাকিস্তানের মিডিয়ায় কি খবর প্রকাশিত হয়েছে তার দায় আমার নয়। পাকিস্তানের মিডিয়ার বিষয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই। বারবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিশেষ করে বিজেপির পক্ষ থেকে কমিউনাল প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন ফিরহাদ বলেন, আমি এদেশে জন্মেছি, বিদেশ আমার জন্ম ভূমি। এদেশের অখন্ডতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনে যদি প্রাণ যায় ক্ষতি নেই ঘোষণা ফিরহাদের। পাকিস্তানের ডন পত্রিকা আমাকে নিয়ে কি লিখেছে বা কিভাবে তারা গল্পের গরুকে গাছে তুলেছে সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। বিজেপির পার্টি অফিসে বিদেশি কাগজ আসে। তাই ওরা জানতে পারে শত্রু দেশের কাগজে কি লেখা হচ্ছে। সেজন্যই দেশের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নিমন্ত্রণ ছাড়াই প্লেন ঘুরিয়ে পাকিস্তান পৌঁছে যান। আমরা এটা করি না। আমরা দেশের শত্রু এমন কোন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখিনা, অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফিরহাদ।
আরও পড়ুন: বড়দিনে পার্ক স্ট্রিট বন্ধ কতদিন? ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ফিরহাদ বলেন, বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে যে কটাক্ষ করা হচ্ছে,,, আমার পিতৃ পরিচয়, আমার মাতৃ পরিচয় সহ একাধিক বিষয় নিয়ে- এটা চরম নোংরামি। এটা আমার রাজ্যের বা আমার দেশের সংস্কৃতি নয়। বাংলায় কোনদিন সেই সংস্কৃতি ছিল না। বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের হাত ধরে বাংলায় এই রাজনীতি এসেছে। এটা চরম নোংরামি ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজেপিকে নিশানা করে ফিরহাদ বলেন, “ভারতের সংস্কৃতিকে শেষ করে দিচ্ছে। ভারতের ঐতিহ্যকে শেষ করে দিচ্ছে।” পাকিস্তানের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যোগের অভিযোগ টেনেও সরব হন কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র। তিনি আরও বলেন, বিহারে জে ডি ইউ প্রধান নীতিশ কুমার যেভাবে একজন মুসলিম মহিলার হিজাব টেনে খুলে দিতে গেলেন তা ভারতের সংস্কৃতি নয়। এ কোন একজন মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীর অপমান নয়। এটা ভারতবর্ষের সমস্ত ধর্মের নারীদের অপমান।







