নয়াদিল্লি: এসএসসি (SSC) বয়সে ছাড় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য ওঠে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে। গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সে ছাড় পাবেন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। যোগ্য অথচ ২০১৬ সালের পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদেরও বয়সে ছাড় দিতে হবে, এমন কোনও নির্দেশ নেই। এনিয়ে সব পক্ষের কাছে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পরবর্তী শুনানি মার্চ মাসে।
২০১৬ এসএসসি (SSC Teacher Recruitment Case) পরীক্ষায় ‘যোগ্য’ কিন্তু চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে বয়সের ছাড় দেওয়ার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণ, মূল মামলায় রায় দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট সব যোগ্য কিন্তু পরীক্ষায় নির্বাচিত না হওয়া প্রার্থীদের ফের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার জন্য দরজা খুলে দিতে চায়নি।শুধুমাত্র যে সমস্ত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন তাদের জন্যই বয়সের ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এবার এই মর্মে শীর্ষ আদালতের অবস্থান স্পষ্ট করে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ একটি নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব’, বারাসতে বিস্ফোরক অভিষেক
মামলাকারীদের দাবি ছিল, তাঁরা ২০১৬ সালের নিয়োগপর্বে যোগ দেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও নেই। সেই কারণেই একাদশ-দ্বাদশের যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, তাতে তাঁরা বয়সে ছাড় পাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ওই মামলায় গত ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছিল, এসএসসি আলাদা করে আনটেন্টেড প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে যাঁদের নাম দাগিদের তালিকায় নেই, তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছাড় পাবেন। প্রসঙ্গত, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত নন (untainted), তাঁরা বয়সের ছাড় পেয়ে নতুন নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন। এখানেই আপত্তি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন, কিন্তু প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় পাবেন। কিন্তু যাঁরা যোগ্য অথচ ওই পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ের কথা বলা হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্টের বয়স সংক্রান্ত ছাড়ের রায়ে স্থগিতদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
এ দিন শুনানিতে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন। দু-একদিনের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী শীর্ষ আদালতকে হাই কোর্টের রায় ও সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায় ব্যাখ্যা করে বোঝাতে চান,কোন যুক্তিতে যোগ্য, বঞ্চিত, সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরাও ছাড় পাওয়ার যোগ্য।তা শুনে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, আদালত কখনও বলেনি, যোগ্য অথচ সুযোগ না পাওয়াদেরও ছাড় দিতে হবে। সেই কারণেই হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।







