Thursday, February 5, 2026
HomeScrollAajke | এই বাজেট ঐতিহাসিক, মমতা যা করলেন তা আগামীদিনে মানুষ মনে...
Aajke

Aajke | এই বাজেট ঐতিহাসিক, মমতা যা করলেন তা আগামীদিনে মানুষ মনে রাখবেন

ভোটের আগে শেষ বাজেট, তাতে আম আদমি কী পেল?

এমনিতেই এই রাষ্ট্র কাঠামো সব দিক থেকেই হিসেব করলে বড় লোকেদের, ধনীদের, কোটি কোটি পতিদের, প্রত্যেক সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের সঙ্গেই সেই তোষোনের কাজটা করে থাকে, তলায় ঝগড়া চলতেই থাকে মুসলিম তোষণ, হিন্দু তোষণের, কিন্তু আদতে সরকার যাঁদের কোটি অযুত টাকা আছে তাঁদের জন্যই। মাসে সাকুল্যে রোজগার ১২০০০ টাকা এক অত্যন্ত গরীব মানুষ, কোনওরকমে তার দুই বাল বাচ্চার পেটে দুবেলা দুটো দিয়ে কিছুটা রাখে অসুখ-বিসুখ আর স্কুলের নিতান্ত কিছু জরুরি খরচের জন্য, তথ্য বলছে বছরে দুটো নতুন জামা সেই পরিবারে যায় যাদের ন্যুনতম রোজগার ১৮ হাজার টাকা। ওদিকে সরকারের টাকায় তৈরি হয় ঝাঁ চকচকে ফ্লাই ওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, বুলেট ট্রেন, উন্নয়নের হদ্দমুদ্দ যাকে বলে তার সঙ্গে দেশের ওই ২৭% যাদের রোজগার ১২ হাজার তাকা বা তার কম তার কোনও সম্পর্কই নেই। সরকার শিল্পপতিদের নেমতন্ন করে ডাকে, ঋণ দেয়, নানান ছাড় দেয়, কেন? না শিল্প হবে, কিন্তু সেই বিশাল ছাড় আর সুযোগ সুবিধে নিয়ে তৈরি হওয়া শিল্প কারখানাতে টানা ২০ বছর বিরাট লাভ হবার পরে পরপর দু বছর লোকসান হলেই গণেশ উলটে কারখানা বন্ধ করে সেই মালিক চলে যায়, কারখানার কঙ্কাল পড়ে থাকে, কারণ সেই মালিক শ্রমিককে কাজ দেবার জন্য তো আসেনি, এসেছিল লাভ করতে, লাভ হচ্ছে না সে পালিয়েছে। হ্যাঁ রাষ্ট্র এতটাই নির্দয়। তো সেই রাষ্ট্রে গত বেশ কিছু বছর ধরে গরীব মানুষেরা এক নতুন ছকে চলা শুরু করেছে, ভোটের আগে তাদের সরল প্রশ্ন কী দিচ্ছেন বলুন, আলগা পিরিত বা প্রপতিশ্রুতি নয়, এক্কেবারে কড়ায় গন্ডায় কী দিচ্ছেন আর সেতার ওপরেই আমাদের সমর্থন দাঁড়িয়ে আছে। হ্যাঁ গণতন্ত্রের এক নতুন ডেফিনেশন, এক নতুন চ্যাপটার, ডাইরেক্ট বেনিফিসিয়ারি, ভোটের (Vote) পরে আপনারা শিল্প করুন, রাজ্য বা দেশের উন্নয়ন করুন, আগে বলুন আমরা কী পাচ্ছি? এই ছকের ধাক্কায় বেসামাল গোটা রাষ্ট্র আর রাজ্যের অর্থনীতি, যে যে রাজ্যে শাসক সে বাধ্য ওই গরীবস্য গরীব মানুষজনকে ধারাবাহিকভাবে এমন কিছু ট্যাঞ্জিবল বেনিফিট দিতে যা দেবার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ভোগ করতে পারে। হ্যাঁ লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী থেকে নানান স্কিম আসলে সেই কাজই করে। আর সেটাই মানুষ এখন জানতে চায়? তাইলে আমি কত পাইলাম? সেটাই বিষয় আজকে, এই বাজেট ঐতিহাসিক, মমতা যা করলেন তা আগামীদিনে মানুষ মনে রাখবেন।

হ্যাঁ ভোটের আগে শেষ বাজেট, বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট, তাতে আম আদমি কী পেল? কতটা পেল? অবশ্য জোক অফ দ্য ইয়ার হল বাজেটের আগেই শুভেন্দু অধিকারি যিনি নাকি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তিনি বলেছেন যা খুশি ঘোষণা করতে দিন এই সরকারকে, আমরা এসেই তো সেই টাকা কড়ি আপনাদের দেবো। আগামী মে মাসের শেষে গরম বিকেল সন্ধ্যে হলে ঝটকায় কাটা কচি পাঁঠার মাংস পেঁপে দিয়ে পাতলা ঝোল করে ভাত দিয়ে মেখে খেতেখেতে এই দুঃখ ভুলতে হবে কিখে রাখুন। সেকথা থাক, মধ্যবিত্ত চাকরিজীবিদের ঘরে আজ উৎসব, সর্বোচ্চ আদালত ২৫% বকেয়া ডিএ দেওয়ার রায় দিয়েছে, যদিও এমন রায় এর আগেও এসেছিল, সবার খাতায় হিসেব নিকেশ করা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু আসেনি। বকেয়া থাক, ৪শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছে সরকার, সেটা তো পাবেনই। কিন্তু রাজ্যের গরীব মানুষজনের জন্য বেশকতগুলো খুশির খবর আছে বোইকি। ১) লক্ষ্মীর ভান্ডার ৫০০ টাকা বারানো হলো, সব্বার। আশাদিদিদের ভাতা বাড়লো ১০০০ তাকা করে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের হাজার টাকা বেতন বাড়লো। কৃষকভাতা বেড়ে ৪০০০ হল।

আরও পড়ুন: Aajke | হ্যাঁ, রুখে দাঁড়ালেন মমতা সুপ্রিম কোর্টে, লড়লেন রাজ্যের মানুষের জন্য

কিন্তু এসবের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল রাজ্যজুড়ে মহাত্মা শ্রী প্রকল্প চালু করা হল। যেখানে ন্যুনতম ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হল। ছোট্ট ঘোষণা কিন্তু এর ব্যপ্তি বিরাট। কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প কে ১২৫ দিন করেছেন কিন্তু ১) ১২৫ দিন কাজের গ্যারান্টি দেন নি। ২) সেই প্রকল্পের ৪০শতাংশ টাকা দিতে হত রাজ্য সরকারকে। ৩) সেই প্রকল্পের কাজ কোথায় হবে, কতটা হবে কীভাবে হবে সবটাই এখন চলে গেছে কেন্দ্রের হাতে। মনরেগা থেকে গান্ধী তুলে রাম এনে এই প্রকল্পের ঘোষণার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছিলেন আমরা আমাদের প্রকল্প চালাবো। হ্যাঁ বাজাটে সেই ঘোষণা এলো, যা হলো তা আগামী দিনে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতই সারা দেশে ছড়াবে, হ্যাঁ এই প্রকল্প রাজ্যের গরীব মানুষের হাতে এক নিশ্চিত উপার্জনের ব্যবস্থা তুলে দেবে, সেটাই এই বাজেটের সবচেয়ে বড় কথা আর ক দিনের মধ্যে এই সরকার বিরোধী দল এই প্রকল্প নিয়ে চর্চা শুরু করবে আর বুঝতে পারবে যে মমতা তাঁর সমর্থনের বাক্স কতটা বাড়াতে পারলেন। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেষ করেছিলাম যে রাজ্য জুড়ে মনরেগার মত রাজ্য সরকারের নিজেদের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের ঘোষনা করে রাজ্যের ৫/৬ কোটি মানুষের নিশ্চিত উপার্জনের ব্যবস্থা করলেন, এটা কি আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

হ্যাঁ ধক আছে মহিলার, ইউপিএ আমলের মনরেগা থেকে গান্ধী তুলে নিয়ে, ইনকাম গ্যারান্টিকে শেষ করে দিয়ে মোদি সরকার এনেছে জিরামজি না কি এক প্রকল্প। তাদের ব্রুট মেজরিটি দিয়েই এই কাজ করেছে, প্রত্যেক বিরোধী দল আর নেতা তার বিরোধিতা করেছে। দেশে এখনও নয় নয় করে ৭ টা রাজ্য সরকার আছে, কিন্তু সেই একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ধক আছে, পালটা প্রকল্প চালু করে দিলেন, হ্যাঁ গ্রাম শহরে গরীব মানুষজন এক্কেবারে আগের মনরেগার মত কাজ পাবেন তফাৎ হল রাজ্য সরকার জানিয়েছে ১০০ দিনের গ্যারান্টিও থাকছে। হ্যাঁ এটা আগামী দিনের ইতিহাস, লিখে রাখুন আজই বলে দিলাম।

Read More

Latest News