ওয়েব ডেস্ক : ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘর্ষে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। তার প্রভাব এসে পড়েছে ভারতে (India)। সম্প্রতি গ্যাসের দাম (Gas Price) বাড়ানো হয়েছে ৬০ টাকা। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে (Central Government) তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর জন্য কেন্দ্রের পরিকল্পনার অভাবকেই তিনি দায়ী করেছেন তিনি। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা। পাশাপাশি এই সঙ্কটের প্রতিবাদে আগামী সোমবার কলকাতায় মিছিল করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, “গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণে। ফলে রাজ্যের হাতে এই সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।” তার অভিযোগ, “যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই কেন্দ্র হঠাৎ ঘোষণা করেছে যে, নতুন গ্যাস (Gas) পেতে ২৫ দিন সময় লাগবে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কালোবাজারিদের সুযোগ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।” তিনি আরও বলেছেন, গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। বহু স্কুলে মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও রান্না বন্ধ রেখে শুধু ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইভাবে ছাত্রাবাস, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল হোটেল, রেস্তোরাঁতেও সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
আরও খবর : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, প্রভাব পড়ল কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনে
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “কেন্দ্রের উচিত ছিল আগে থেকেই গ্যাসের মজুত কত আছে তা পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা করা”। তাঁর কথায়, যে কোনও সরকারকে আগে জানতে হবে তার মজুত কত এবং কতদিন সেই সরবরাহ চালানো সম্ভব। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করে মানুষের মধ্যে সরবরাহ বণ্টন করতে হয়। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের সঙ্কটের সময় কালোবাজারি বা মজুতদারির আশঙ্কা থাকলেও ‘রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে’। জেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ মজুতদারি বা বেআইনি কাজ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে প্রথমে সচেতনতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল গ্যাসের (Gas) সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। সাবসিডি দেওয়া এখন প্রধান বিষয় নয়, বরং মানুষের কাছে গ্যাস পৌঁছনোই প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, সংসদে এই বিষয়ে কেন্দ্রের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত এবং কীভাবে সঙ্কট মোকাবিলা করা হবে তা জানাতে হবে।
পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজ্য সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিড-ডে মিল, আইসিডিএস, হাসপাতাল, হোস্টেল এবং সাধারণ পরিবারের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গ্যাসের বিষয়েও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মানুষ যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। তাঁর কথায়, ‘এখন সবচেয়ে বড়ো কাজ মানুষের পাশে দাড়ানো।’
দেখুন অন্য খবর :







