কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পুরসভাগুলিতে তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলরদের পদত্যাগের হিড়িক। উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Pargana) থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Pargana) একের পর এক পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণইস্তফা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীদের দাবি, “তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস।” যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক চাপ ও ভয় দেখিয়েই ইস্তফা আদায় করা হচ্ছে।
সোমবার নতুন করে শিরোনামে উঠে এসেছে ডায়মন্ড হারবার পুরসভা। মোট ১৬টি আসনের মধ্যে ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন মহকুমাশাসকের কাছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাতেই এখন ফাটল স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীর জমি ‘জবরদখল’ করে পার্ক তৈরির অভিযোগ, কাঠগড়ায় আরিয়াদহের কাউন্সিলার
এর আগে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভায় পুরপ্রধান-সহ ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। ভাটপাড়ায় ৩০ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগে কার্যত বিপর্যস্ত পুর প্রশাসন। গারুলিয়ায় ২১ জনের মধ্যে ১০ জন, হালিশহরে একসঙ্গে ১৬ জন এবং কাঁথিতে ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের সাতটি পুরসভায় মোট ১১৫ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনায় একের পর এক পুরসভায় এই গণইস্তফা তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছিল। তারই প্রতিফলন এখন পুরসভাগুলিতে দেখা যাচ্ছে। তবে শাসকদলের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই কাউন্সিলরদের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ফলে এই ইস্তফার নেপথ্যে শুধুমাত্র দলীয় ভাঙন নয়, রয়েছে পাল্টা রাজনৈতিক সমীকরণও।







