Saturday, February 7, 2026
HomeScroll'কমিশনের অফিসে বিজেপির একজন এজেন্ট রেখে দিয়েছে, অভিযোগ মমতার
Mamata Banerjee

‘কমিশনের অফিসে বিজেপির একজন এজেন্ট রেখে দিয়েছে, অভিযোগ মমতার

কমিশনের অফিসে বিজেপির এজেন্ট আছে, অভিযোগ মমতার

কলকাতা: SIR-এর খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বাদ যাওয়া ভোটারদের পাশে দাঁড়াতে ময়দানে ড়েছে তৃণমূল। এসআইআর আবহে নেতাজি ইন্ডোরে (Netaji Indoor Stadium) বিএলএদের (Mamata Banerjee Meeting BLA) নিয়ে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবারের বৈঠক থেকে আসন্ন বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিজেপি ও কমিশনের (Election Commission) আঁতাঁতের অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে সুর চড়িয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যা বিজেপি অফিস থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে, তাই চেঞ্জ করা হচ্ছে। আমি শুনেছি, নির্বাচন কমিশনের অফিসে বিজেপির একটা এজেন্ট রেখে দিয়েছে। সে অনলাইনে যার ইচ্ছা নাম বাতিল দিচ্ছে। পুরো লিস্টটা করে দিচ্ছে বিজেপির পার্টির লোকেরা। এরকম নির্লজ্জ কমিশন আমি জীবনে দেখিনি। দেখতেও চাই না।” এদিন দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, “এবার কোনও পিকনিক হবে না। সব হবে একেবারে ২০২৬ এ জেতার পর। কর্মীরা দেখুন, নেতারা বুঝে নিন।”

মমতা বলেন, “কী চলছে আর কী করা উচিত সেটা জানতে হবে। নির্বাচনে ২ মাস আগে ডেলিবারেট অ্যাটেম্পট। মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। অটোক্রেসি চলছে। BLO-দের দোষ নয়। কিন্তু দেখছিলাম কেন্দ্রীয় সরকারের বিএলও লাগিয়েছে। গায়ের জোরে দু’বছরের কাজ দু’মাসে করতে চাইছে।সরকার যাতে কাজ করতে না পারে। মতুয়া, তফসিলি, আদিবাসীদের ভোট থাকবে না। ৪৬ জন মারা গিয়েছেন। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি হিন্দু।”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রতিদিনই বিএলও অ্যাপে নতুন নিয়ম বদলানো হচ্ছে, অথচ কোনও স্থায়ী SOP নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি তাঁকে ‘অপরদার্থ’ বলে আক্রমণ করেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি চক্রান্তকারী দল। দু’চোখে দুর্যোধন আর দুঃশাসন। যারা গান্ধীজির নাম কেটে দেয় তারা দেশকে কতটা ভালোবাসে জানা আছে। বাংলাকে জব্দ করতে চাইছে, ওদের স্তব্ধ করব। বিজেপি রইল পিছুর টানে, কাঁদবে তুমি কাঁদবে। বিশ্বকবি, বিদ্যাসাগর, গন্ধিজিকে অসম্মানিত হতে হবে? বাংলা ভাষার অস্মিতাকে অসম্মানিত হতে হবে? এর জবাব চাই, বাংলায় বিজেপিকে পা রাখতে দেওয়া যাবে না। আমি বিশ্বাস করি নেতারা পারবে না, কর্মীরা পারবে। টাকার কোনও দাম নেই, জীবন দিয়ে যেটা সঞ্চয় করবেন সেই কর্মের দাম থাকবে।” শাহকে মমতার তোপ, “এইরকম অপদার্থ হোম মিনিস্টার দেখিনি। স্বৈরাচারী, দুরাচারী। বাকি শব্দ তোলা থাকল। তিনিই প্রধানমন্ত্রীকে কন্ট্রোল করছেন। দাঙ্গাকারীরা যদি দেশ চালায় তাহলে কী হবে বুঝুন। গান্ধীজির নাম বাদ দিয়ে রাম নাম? দেশটাকে রাম নাম সত্য হে করে দিচ্ছে।”রাজ্যে বহিরাগতরা ঢুকেছে বলেই আশঙ্কা মমতার। তাঁর দাবি, “কাল বিহার থেকে অনেক বাইক নিয়ে লোক ঢুকেছে। ডবল বুলেট নিয়ে কাজ করবে।”

আরও পড়ুন: ‘বাংলায় থাকতে চাইলে ভোটার লিস্টে নাম তুলুন, বিহার থেকে নাম কাটুন’ বার্তা মমতার

বিজেপি ও কমিশনের আঁতাঁতের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “২৪ বার নির্দেশিকা বদলেছে। তোমরা কালপ্রিট, বিজেপি কালপ্রিট।পরিবারতন্ত্র করতে গিয়ে দেশ ভাসিয়ে দিচ্ছ। তোমরা কী জানো ভোট সম্পর্কে হরিদাস? ২০০৪ এ লোকসভা ছিল। ডিলিমিটেশন তার পর। সেটা মনে আছে? একটা ভোটার আরেকটায় চলে গেল। আগে ছিল আলিপুর। এখন ভবানীপুর। নতুন নতুন ওয়ার্ড ঢুকল। ম্যাপিং টাই তো ভুল। এটা ডেড ব্লান্ডার। এলাকায় এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিটিং-মিছিল চলবে। বিএলএ-১, বিএলএ-২ যাঁরা আছেন, তাঁদের ডিসটার্ব করা চলবে না।কলকাতা জেলা আগে অন্যরকম ছিল। আগে ১০০টি ওয়ার্ড ছিল। এখন ১৪৪টি। ২০০৯ সালে ডিলিমিটেশন হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এক বারও কি ভেবেছেন? ভ্যানিশ কুমার বাবুরা… বিজেপির দালালেরা একবারও ভেবেছেন? বিএলও-দের নামে গালাগালি দেওয়ার আগে ট্রেনিং দিয়েছিলেন? পুরোটাই অপরিকল্পিত।আমাকে আপনারা ক্যাঁচকলা করবেন। যত কেস করবেন, করবেন। চাইলে গলাটাও কেটে নিতে পারেন। কিন্তু আমি মানুষের কথা বলব।”

কমিশনকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে কী ভাবে ভোটারেরা কাজ করবেন, সেই সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই। আসেনি। ফলে হাজার হাজার ভোটারের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কী ভাবে এত স্বল্প সময়ে দূর হবে! বিএলও, সুপারভাইজ়র, এআরও, ইআরও, ডিইও, সিইও— কারও বাস্তব কথা জানা নেই।শুনানি কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও সুষ্ঠু নির্দেশিকা হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২০ ডিসেম্বর নতুন নির্দেশ এসেছে।প্রত্যেক বিধানসভায় ১৫ জন করে স্বাধীন পর্যবেক্ষক হবেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী। মানে বিজেপির দলের লোকেরা। এটা কখনও হয়েছে!আমার রাজ্যে ভোট করবে রাজ্যের লোকেরা, না বেরাজ্যের লোকেরা?সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। ইআরও-দের উপরে এক জন করে বিশেষ পর্যবেক্ষক রাখা হচ্ছে।”

Read More

Latest News