ওয়েব ডেস্ক: আর কত কুকীর্তির নজির গড়বে বাংলাদেশ (Bangladesh)? সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ঘটনায় গোটা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বিবমিষা হওয়াই স্বাভাবিক। ধর্মোন্মাদ ও খামখেয়ালি জনতার আরও এক ভয়াবহ কীর্তি সামনে আনল বাংলাদেশ পুলিশ (Bangladesh Police)। প্রথম আলো (Prothom Alo) ও ডেলি স্টারের (Daily Star) অফিসে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় লুট করা টাকায় টিভি ও ফ্রিজ কেনার প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দাবি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও হাসিনা-বিরোধী তরুণ নেতা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পরই জনতার ক্ষোভ আছড়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমের উপর। ঢাকায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। একইভাবে হামলার শিকার হয় ডেলি স্টারের অফিসও। গোটা এলাকা কার্যত নরকে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: ফের বাংলাদেশে গুলিবিদ্ধ নেতা, হাদির পরে এবার কে?
এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। মামলার নথি অনুযায়ী, দুই সংবাদপত্র কার্যালয় মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা। সোমবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ জানায়, ধৃতদের মধ্যে একজন হামলার রাতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লুট করেছিল। জেরায় সে সেই কথা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুটের বাকি টাকা দিয়ে ওই ব্যক্তি টেলিভিশন ও ফ্রিজ কিনেছিল। ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ, অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম কতটা সুরক্ষিত? সংবাদপত্রের অফিস ভেঙে লুটপাট করে সেই টাকায় বিলাসিতার সামগ্রী কেনার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আইনশৃঙ্খলার ভগ্নদশা।
এর আগেও ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনকাল উৎখাতের সময় এমন লুটপাটের ছবি দেখেছিল বাংলাদেশ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে মুরগি, আসবাব, জামাকাপড় চুরি করে উল্লাস করেছিল জনতা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই, ২০২৫ সালের শেষে ফের সেই অরাজকতার ছবিই ফিরে এল—এবার নিশানায় দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম।







