Friday, March 13, 2026
HomeScrollFourth Pillar | হ্যাঁ, আরএসএস–হিন্দু মহাসভা–সাভারকারের চক্রান্তেই খুন হয়েছিলেন গান্ধীজি
Fourth Pillar

Fourth Pillar | হ্যাঁ, আরএসএস–হিন্দু মহাসভা–সাভারকারের চক্রান্তেই খুন হয়েছিলেন গান্ধীজি

কেন গান্ধীকে মেরেছিল গডসে? ব্যক্তিগত দ্বেষ তো নয়, এটা ছিল এক আদর্শের, এক দৃষ্টিভঙ্গির লড়াই

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

আজ ৩০ জানুয়ারি। সেটা ছিল ১৯৪৮-এর ৩০ জানুয়ারি। তখন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী থাকেন দিল্লিতে বিড়লা হাউসের কোণের দিকে দু’টো কামরায়, কিছুদিন আগেই এখানে উঠে এসেছেন গোল মার্কেটের কাছে বাল্মীকি মন্দিরের ছোট্ট ঘরখানা থেকে। সেখানে পাকিস্থান থেকে পাঞ্জাবী শরণার্থীদের ভিড়। প্রতি সন্ধ্যেতে ওই বিড়লা হাউসের বাইরেই এক বেদীতে তাঁর সান্ধ্য প্রর্থনা সভাতে প্রচুর মানুষ আসেন, তাঁদের সামনে কিছু কথা বলেন বাপু, তাঁরাও কিছু প্রশ্ন করে। অনেকের ক্ষোভ, কেন বাপু থাকতে ভাগ হয়ে গ্যালো ভারতবর্ষ? কেন বাপু মুসলমানদের প্রতি একটু বেশিই নরম? কেন বাপু হিন্দু হয়েও হিন্দুরাষ্ট্র সমর্থন করছেন না? পাকিস্তান থেকে মুসলমানরা আসছেন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে, তাঁদের ভয়, তারা গান্ধীবাদী বলেই তাঁদের উপর অত্যাচার হবে। গান্ধী অসহায়, বিভিন্ন প্রান্তে দাঙ্গা, কাশ্মীরে প্রায় যুদ্ধ সামলাতে আর দেশিয় রাজ্যগুলোকে ভারতবর্ষে বিলয় ঘটানোর চেষ্টা নিয়ে ব্যস্ত নেহেরু, প্যাটেল, নেহেরুর মন্ত্রিসভা। মাত্র ১০ দিন আগে ২০ জানুয়ারি উপাসনা বেদীর কিছুটা দূরে একটা বোমা বিস্ফোরণ হয়, কেউ আহত হয়নি, এক পাঞ্জাবী শরণার্থী মদনলাল পাওয়াহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সর্দার মানে বল্লভভাই প্যাটেল এসে কড়া নিরাপত্তার কথা বলতে গান্ধীজি হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। পাওয়াহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছুই পাওয়া যায়নি। সকাল বেলায় উঠে বাপু খানিক গীতা পাঠ শুনলেন, তারপর একটা লেখা নিয়ে বসলেন, কংগ্রেসের সংবিধান, তিনি যেমনটা চান, লিখে ছাপা হবে তাঁর পত্রিকা ‘হরিজন’-এ। ঠিক আটটায় চান আর মাসাজ। চান টান করেই বাপু বকা দিলেন মনু বেন, মৃদুলা গান্ধীকে, মাত্র ১৮ বছর বয়স, এত শরীর খারাপ কেন, ইত্যাদি। চানের পর সেদিন তাঁর ওজন মাপা হল ৪৯.৭ কেজি। এর পর লাঞ্চ, পেয়ারেলালজির সঙ্গে, নোয়াখালির দাঙ্গা নিয়ে কথা বলতে বলতে সামান্য খাবার। তারপর নিয়ম মাফিক একটা দিবানিদ্রা, কারণ তিনি ওঠেন নিয়ম করে ব্রাহ্মমুহুর্তে। তারপর এলেন সর্দার দাদা, হ্যাঁ, বল্লভভাই প্যাটেল, জরুরি কথা বার্তা অনেকক্ষণ ধরে চলল। মনুবেন এসে খবর দিলেন গুজরাতের কাথিয়াওয়াড় থেকে দু’জন নেতা এসেছেন দেখা করতে, বাপু একটু বিরক্ত হলেন, বললেন, “বলে দাও, বেঁচে থাকলে প্রার্থনার পরে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলে নেব।” প্যাটেলের সঙ্গে আরও বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলল।

ঘড়ি ধরে ঠিক পাঁচ’টায় তিনি বের হতেন প্রার্থনা সভার জন্য, এদিন ১০ মিনিট দেরিতে রওনা দিলেন। একদিকে আভা চ্যাটার্জী, আভা বেন, অন্য দিকে মনু বেনকে নিয়ে বাপু চললেন প্রার্থনা সভায়। কে যেন একজন মন্তব্য করলেন আজ বাপু দেরিতে আসছেন, একটু বিরক্তি নিয়ে সেদিকে তাকিয়েই আবার হাসি ফিরে এল বাপুর ঠোঁটে। খাকি পোশাক পরা একজন এগিয়ে এল গান্ধীজির সামনে, মনু তাঁকে সরিয়ে দিতে গেলেন, বললেন, আজ এমনিতেই দেরি হয়ে গিয়েছে, কেন বিরক্ত করছ? লোকটা ধাক্কা দিল মনু বেনকে, মনুর হাতে রাখা নোটবুক, থুকদান আর কন্ঠিমালা ছিটকে পড়ল, মনুবেন নিচু হয়ে ওগুলো কুড়তে গেলেন সেই সময় লোকটা একদম সামনে চারটে, চারটে গুলির শব্দ, ধোঁওয়া। বাপু লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে, শেষ অস্ফুট শব্দ ‘হে রাম’। তখন ৫টা বেজে ১৭ মিনিট। স্থির স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে সব্বাই। হারর্বাট রেইনার, ভাইস কন্সাল হিসেবে আমেরিকান এমবাসিতে এসেছেন, এই প্রথম তিনি দেখতে এসেছেন গান্ধীজিকে কাছ থেকে, আগে ছবি দেখেছেন, আজ সামনে থেকে দেখবেন বলে ভিড় ঠেলে সামনের সারিতে, তিনি লাফিয়ে গিয়ে ধরলেন আততায়ীকে। আততায়ীর নাম নাথুরাম গডসে। নেহেরু বললেন, ‘Friends and comrades, the light has gone out of our lives, and there is darkness everywhere, and I do not quite know what to tell you or how to say it. Our beloved leader, Bapu as we called him, the father of the nation, is no more.’ দুনিয়ার আরেক প্রান্তে আরও একজন অবাক, অহিংসার প্রতি এমন দৃড় বিশ্বাস দেখে, তিনি বললেন, ‘With his belief in his heart and mind, he has led a great nation on to its liberation. He has demonstrated that a powerful human following can be assembled not only through the cunning game of the usual political maneuvers and trickery but through the cogent example of a morally superior conduct of life. The admiration for Mahatma Gandhi in all countries of the world rests on that recognition.’ একথা যিনি বললেন তাঁর নাম আলবার্ট আইনস্টাইন।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনায় মৃত্যু যে বারামতি এয়ারপোর্টে, সেখানে ঠিক এক মাস আগেই গিয়েছিলেন গৌতম আদানি

কয়েকদিনের মধ্যেই গ্রেফতার হল নারায়ণ আপ্তে, দিগম্বর বাড়গে, শঙ্কর কিস্টাইয়া, দত্রাত্রেয় পারচুরে, বিষ্ণু কারকারে, নাথুরাম গডসের ভাই গোপাল গডসে আর মোদিজির গুরুদেব ভিনায়ক দামোদরদাস সাভারকার। মদনলাল পাওয়াহার ব্যাপারটা পরিষ্কার হল এতদিনে, তাঁকেও এই হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে ফেলা হল। নিম্ন আদালতে নাথুরাম গডসে আর নারায়ন আপ্তেকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হল, বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল, কেবল প্রমাণের অভাবে সাভারকার খালাস পেলেন। হ্যাঁ, প্রমাণের অভাবে। উচ্চ আদালত আরও দুজনকে ছেড়ে দিল, দত্রাত্রেয় পাউচুরে আর শঙ্কর কিস্টাইয়া ছাড়া পেল। গডসে ছাড়া সবাই নির্দোষ বলে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিল, গডসে আপিল করেছিল ষড়যন্ত্র কথাটা তুলে দেবার জন্য, তার বক্তব্য ছিল, যা করার উনি একাই করেছেন, বাকিরা কেউ যুক্ত নয়, আদালত অবশ্য তাতে কান দেয়নি। ৮ নভেম্বর ১৯৪৯ গডসে এবং নারায়ণ আপ্তেকে ফাঁসি দেওয়া হয়, তার আগে গান্ধীর দুই পুত্র মণিলাল এবং রামদাস গান্ধী এই ফাঁসি মুকুব করার আবেদন করেছিলেন, যে আবেদন সরকার মানেনি। ১৯৬৪-তে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া গোপাল গডসে সমেত সবাই ছাড়া পান। তাঁদেরকে এক সম্বর্ধনা দেবার আয়োজন হয়, সেই সভার আয়োজন করেন জিভি কেতকর, ইনি বাল গঙ্গাধর তিলকের নাতি। সেখানে তিনি বলেন যে, গডসে তাঁকে বহু আগেই এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, এবং তিনি তার বিরোধিতা করেছিলেন। এ নিয়ে তুমুল আলোড়ন ওঠে, কেতকরকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিচারপতি জীবনলাল কাপুরকে দায়িত্ব দিয়ে এক কমিশন তৈরি করা হয়, যার কাজ ছিল এই হত্যার পিছনে ষড়যন্ত্র আর গাফিলতি খুঁজে বের করা। জাস্টিস কাপুর তাঁর রিপোর্টে বলেছিলেন যে, পুলিশি তদন্তে যথেষ্ট গাফিলতি ছিল, ২০ জানুয়ারি বোমা বিস্ফোরণের সময়েই এই পরিকল্পনা প্রকাশ হয়ে যেত, তখনই গান্ধীজির আপত্তি সত্ত্বেও সিকিউরিটি বাড়ালে এই হত্যা আটকানো যেত এবং সাভারকরের দেহরক্ষী আপ্পা রামচন্দ্র কাসার, আর তাঁর সেক্রেটারি গজানন বিষ্ণুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জানা যেত সাভারকর এবং তাঁর গোষ্ঠীই এই হত্যার পিছনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। সর্দার বলভভাই প্যাটেল তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ২ রা ফেব্রুয়ারিতেই আরএসএস-কে ব্যান করা হয়। প্রস্তাবে লেখা হয়, ‘In pursuance of this policy the Government of India have decided to declare unlawful the Rashtriya Swayamsevak Sangh in the Chief Commissioner’s Provinces. Similar action is also being taken in the Governor’s Provinces.’ বল্লভভাই প্যাটেল আরএসএস-কে ব্যান করার সময় যা বলেন, তা গুজরাতের নর্মদা সরোবরের মূর্তির তলায় লিখে দেওয়া উচিত, তিনি বলেন, “All their speeches were fill of communal poison, and as a final result of the poison, the country had to suffer the sacrifice of the invaluable life of Gandhiji.” হ্যাঁ, বল্লভভাই প্যাটেল বলেছিলেন “তাঁদের ভাষণে বিষ ছিল, এবং তারই ফলশ্রুতিতে শেষমেষ গান্ধীজির অমূল্য জীবন চলে গেল।“

কেন মেরেছিল গান্ধীকে গডসে? ব্যক্তিগত দ্বেষ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তো নয়, এটা ছিল এক আদর্শের লড়াই, এক দৃষ্টিভঙ্গির দন্দ্ব। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনটে ধারা খুব পরিস্কার ছিল। (১) কংগ্রেস, যা ছিল মধ্যপন্থার এক প্লাটফর্ম, যদিও কংগ্রেসে বাম ও দক্ষিণপন্থী মানুষেরাও একসঙ্গেই কাজ করতেন, তাদের বিরোধিতা ছিল, সে বিরোধিতা মাঝে মধ্যে প্রবল হয়েছে। কিন্তু গান্ধীর মধ্যপন্থা কংগ্রেসের মূল অবস্থান ছিল। (২) বামপন্থী, মূলত কমিউনিস্ট পার্টি, স্যোশালিস্ট পার্টির সদস্যরা। এর মধ্যেও কমিউনিস্টদের খুব ভালো সংগঠন ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার ঠিক আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে তাদের অবস্থান নিয়ে তারাই দ্বিধাগ্রস্থ ছিল, স্বাধীনতা আসল না নকল, ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ এই প্রশ্নে তারা ভারতবর্ষের মূল স্রোত থেকে প্রথমেই ছিটকে পড়লেন, এবং সেই সময়ে যখন সংবিধান রচনা হচ্ছে, সেই সময় সংবিধান সভায় কমিউনিস্ট দের শুরু থেকেই উপস্থিতি সংবিধানকে হয়তো আরও অন্য দিশা দেখাতে পারত। (৩) দক্ষিণপন্থী হিন্দু আর মুসলিম সংগঠন। এরা দুজনেই দ্বিজাতিতত্বে বিশ্বাস করত, দেশ বিভাজনের এরাই ছিল নাটের গুরু। এই দক্ষিণপন্থী সংগঠনের নেতা সাভারকার দ্বিজাতি তত্বের কথা প্রথম বলেন, পরে জিন্নাহ সেটাকেই তাঁর মূল অস্ত্র করে নেয়। আরএসএস এবং মুসলিম লিগ ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতাই শুধু করেছিল তাই নয়, আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়ন চালানোর জন্য ইংরেজদের সাহায্যও করেছিল। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থকেই মুসলিম লিগ সক্রিয় হয় পাকিস্তান পুনর্গঠনে। আর আরএসএস তখন থেকেই হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করার জন্য নেমে পড়ে। তাদের সামনে প্রবল বাধা ছিল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী আর তাঁর দর্শন। তাই তাঁকে শেষ করার জন্য তাঁদের ষড়যন্ত্র করতে হয়েছিল, যার ফলশ্রুতি গান্ধীহত্যা।

গান্ধী তো প্রথমে বলেছিলেন, তাঁর মৃতদেহের উপর দিয়ে দেশ ভাগ হবে। তারপর চুপ করে যান। বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর আবেদনে কিছুই পাল্টাবে না। স্বাধীনতার সমস্ত অনুষ্ঠান থেকে তিনি দূরে সরে যেখানে দাঙ্গা হচ্ছে, কলকাতা নোয়াখালি পাটনা চলে যান। দাঙ্গা থামেও। তারপর দিল্লি ফিরে গান্ধীজি তখন প্রতিদিন সান্ধ্য প্রার্থনার পরে সমবেত মানুষদের কিছু বলতেন। প্রতিদিন। সেই বক্তৃতা গুলো ‘প্রার্থনা প্রবচন’ নামে একটা সংকলনে ছেপে বার করা হয়। ১ এপ্রিল ১৯৪৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি ১৯৪৮ পর্যন্ত, সেই বক্তৃতার প্রতিটা অংশ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির এক বিরাট পাঠ হয়ে থাকবে। মনে রাখুন গান্ধী তখন একলা, সরকার দাঙ্গা, রোজকার সমস্যা নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে, সদ্য স্বাধীন হওয়া ভারতবর্ষে একলা উনি প্রতিদিন ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলছেন। ৫ জুলাই, “মগর পাকিস্তান কি পহেলি পরীক্ষা তো ইয়ে হোগি কি অহ অপনে য়ঁহা রহনেবালে রাষ্ট্রবাদী মুসলমান ইসাইয়োঁ শিখোঁ আউর হিন্দুয়োঁ আদি কে সাথ ক্যায়সা বর্তাব করতে হ্যাঁয়। ইসকে আলাবা মুসলমানোঁ মে ভি তো অনেক ফিরকে হ্যাঁয়, সিয়া আউর সুন্নি তো প্রসিদ্ধ হ্যায়। আউর ভি কই ফিরকে জিনকে সাথ দেখতে হ্যাঁয়, ক্যায়সা সলুক হোতা হ্যায়। হিন্দুও কে সাথ উয়ে লড়াই করেঙ্গে ইয়া দোস্তি কে সাথ চলেঙ্গে?” গান্ধীজি বলছেন। বলছেন, ওরা মানে পাকিস্তানের সরকার মুসলমানেদেরও কিছু সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে তা দেখতে হবে। তাঁর ইঙ্গিত ছিল সিয়া আর আহমেদিয়ায়দের দিকে। ১০ জুলাই, “পরন্তু যদি সিন্ধ ইয়া আউর জগহ সে লোগ ডর কে মারে অপনে ঘর বার ছোড় কর য়ঁহা আ জাতে হ্যাঁয় তো হম উনকো ভগা দে? যদি হম অ্যায়সা করেঁ তো অপনে কো হিন্দুস্তানি কিস মুহ সে কহেঙ্গে? হম ক্যায়সে জয় হিন্দ কা নারা লগায়েঙ্গে? য়হ কহতে হুয়ে উনকো স্বাগত করেঁ কি আইয়ে য়হ ভি আপকা মুল্ক হ্যায়, ওহ ভি আপকা মুল্ক হ্যায়, ইস তরহ সে উনহে রখনা চাহিয়ে। যদি রাষ্ট্রবাদী মুসলমানোঁ কো ভি পাকিস্তান ছোড় কর আনা পড়া তো উয়ে ভি য়হিঁ রহেঙ্গে, হম হিন্দুস্তানি কি হৈসিয়ত সে। সব এক হি হ্যাঁয়, যদি য়হ নহি বনতা তো হিন্দুস্তান বন নহিঁ সকতা।” পরিষ্কার বলছেন যে, যদি মুসলমানরাও অত্যাচারিত হয়ে এদেশে আসে, তাহলে তাদেরও এই দেশের একজন হিসেবেই রাখতে হবে। আজ একটু আগে যিনি মারা গেলেন আততায়ীর হাতে ১৯৪৮-এ। তিনি থাকলে চিৎকার করে নবারুণ’দা-র সঙ্গেই হয়তো বলতেন, “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার স্বদেশ নয়। কিন্তু তারপরেই শীর্ণ শরীরের এই মানুষটা নিশ্চই তার লাঠির উপর ভর করে গিয়ে দাঁড়াতেন মুখোমুখি আদিত্যনাথ যোগীর, সামনে গিয়ে দাঁড়াতেন অমিত শাহের, চোখে চোখ রাখতেন নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদির। বলতেন, গোহত্যার নামে মুসলমান নিধন বন্ধ কর, সিএএ, এনআরসি-র নামে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানানোর কাজ বন্ধ করো। দেশের জল জঙ্গল জমি দুই গুজরাতিকে বেচে দেবার কাজ বন্ধ করো। হ্যাঁ, উনি বলতেন। আবার খুন করা হবে জেনেও তিনি বলতেন।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

evos gaming

https://rendez-vous.benin-ambassade.fr/profil-d/ https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 DEPOBOS idn poker 88 situs slot gacor https://www.demeral.com/it/demeral_software/ BWO99 slot 5000 poker situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola BANDAR80 WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast bandar togel