ওয়েব ডেস্ক: ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali Khamenei) হত্যা করেছিল ইজরায়েল আর আমেরিকা।তেহরানের কেন্দ্রস্থল পাস্তুর স্ট্রিটের একটি অফিস বাড়িতে জরুরি বৈঠক করেছিলেন ৮৬ বছরের খামেনেই। সেই সময় তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় ইজরায়েল আর আমেরিকা। তাতেই মৃত্যু হয়। সুপ্রিম সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত, বাহরিনের পাশাপাশি আজারবাইজানও রেহাই পায়নি ইরানের হাত থেকে।একটি ‘নীল চড়াই’তেই (Blue Sparrow Weapon) কুপোকাত খামেনেই, ইজরায়েলের এই বিধ্বংসী অস্ত্র কী জানেন?
কোন অস্ত্র দিয়ে বা কী ভাবে খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছিল তা এখনও সঠিকভাবে জানায়নি ইজরায়েল আর আমেরিকা। দুই দেশের প্রশাসন ও শীর্ষ আমলারা এই বিষয়ে একাধিক তথ্য দিয়েছে। তাতেই সামনে আসছে হাড়হিম করা হত্যাকাহিনি। এই হামলায় ইজরায়েল অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্লু স্প্যারো’ (Blue Sparrow Weapon) ব্যবহার করেছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এই অস্ত্রটি তৈরি করেছে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। এটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ১২৪০ মাইল বা ২০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে সক্ষম। নামে চড়়াই হলেও এটির টার্গেট শকুনকেও হার মানায়। প্রযুক্তিগতভাবে এটি একটি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং অস্বাভাবিক কোণে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধেই ফাটল ট্রাম্প শিবিরে! ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শিবিরে স্পষ্ট বিভাজন
ব্লু স্প্যারো মূলত আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি পরিবারের অংশ। এই পরিবারের অন্য দুই সদস্য হল ব্ল্যাক স্প্যারো এবং সিলভার স্প্যারো। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত রকেটের সাহায্যে প্রথমে আকাশের অনেক উঁচুতে উঠে যায়। এরপর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে মাধ্যাকর্ষণের টানে তা লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে। অনেকটা আকাশে ছুঁড়ে দেওয়া বলের মতোই এর গতিপথ।রাফায়েলের তথ্য অনুযায়ী, ব্লু স্প্যারোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৫১ মিটার এবং ওজন প্রায় ১৯০০ কেজি। এটি এক ধাপের কঠিন রকেট জ্বালানি ব্যবহার করে এবং GPS ও INS (Inertial Navigation System)-এর সমন্বিত নেভিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। INS এমন একটি প্রযুক্তি, যা বাহ্যিক সংকেতের ওপর নির্ভর না করেই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা শহর কেঁপে ওঠে। আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে।ইজরায়েল এই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এটিকে বলা হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তেহরানের মধ্যাঞ্চলে নিজের বাসভবনের কাছেই খামেনির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ১ মার্চ তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় এবং ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে খামেনি ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।







