নয়াদিল্লি: আটকাতে পারল না বিরোধীরা! ভোটাভুটিতে হার, সংসদে পেশ আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation Bill 2026) ও মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill)। ৩ দিনের বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডেকে ৩টি বিল পেশ করল কেন্দ্র। মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩টি বিল লোকসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal)।
আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল-সহ তিন বিল পেশ করার আগেই সংসদে তুমুল বিরোধিতায় কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী সাংসদেরা৷এদিন অধিবেশনের শুরুতেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের বিরোধিতা শুরু করে ইন্ডিয়া জোট। তিন বিল জুড়ে দিয়ে একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে পাশ করিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন বিরোধী সংসদেরা৷ অর্জুন রাম মেঘওয়াল সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের আগেই ভোটাভুটির দাবি জানান কংগ্রেস সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল। শুক্রবার আলোচনা শেষে এই নিয়ে ভোটাভুটি হবে। প্রাথমিকভাবে স্পিকার ভোটাভুটিতে রাজি হননি। তাড়াহুড়ো করে এত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশের প্রতিবাদে তারা স্লোগান দেওয়া শুরু করে।
অভিযোগ এরপর নাকি বিরোধীদের মাইকও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতেও স্লোগান থামেনি। শেষে বাধ্য হয়েই ভোটাভুটিতে রাজি হন স্পিকার।বিল পেশের জন্য যে ভোটাভুটি হয়, তাতে প্রত্যাশিতভাবেই জয়ী হয়েছে সরকারপক্ষ। বিলটি পেশের পক্ষে ভোট পড়েছে ২০৭টি। বিলটি পেশের বিপক্ষে ১২৬টি ভোট পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিলেও সরকার এবং বিরোধী দুই শিবিরের বহু সাংসদই অনুপস্থিত। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন বলে খবর। ইন্ডিয়া শিবিরে সংখ্যাটা আরও বেশি। ভোটাভুটিতে বিল পেশের অনুমতি পেয়ে যাওয়ায় আপাতত সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে লোকসভায়। অন্যদিকে রাজ্যসভা গোটা দিনের মতো মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোট এলেই কোচবিহারে অশান্তি কেন হবে? প্রশ্ন তুললেন মমতা
সরকার বলছে, নারী সংরক্ষণ বিলটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং এটি প্রতিটি রাজ্য, সম্প্রদায় ও অঞ্চলের আকাঙ্খা পূরণ করবে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, ‘৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ইতিহাস রচনা করবে। নারীদের জন্য আমরা কত বড় পদক্ষেপ নিচ্ছিল তা দিয়ে ভারত সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এর কোনও বিরোধিতা হওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এতে কারও কোনও ক্ষতি হবে না। আলোচনায় সবকিছু পরিষ্কার ভাবে বেরিয়ে আসবে। কিছু দল দক্ষিণ ভারতে ডিলিমিটেশন নিয়ে ভুল বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’বিরোধীরা বলছে, যদিও বা তারা নারী সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করবে কিন্তু ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এটিকে ডিলিমিটেনের সঙ্গে যুক্ত করার সরকারি পদক্ষেপ তাদের নাপসন্দ।বিলের বিরোধিতায় ডিএমকের সব সাংসদরা কালো জামা পরে এসেছিলেন এদিন৷
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। সেবার বিরোধীরাও ওই বিলটিকে সমর্থন করে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিতে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। সেটারই বিরোধিতায় একজোট ইন্ডিয়া শিবির।







